এযাবৎ 50 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
  
  ঘোর –
  
  ঘোর রে ঘোর ঘোর রে আমার সাধের চরকা ঘোর
ওই
  স্বরাজ-রথের আগমনি শুনি চাকার শব্দে তোর॥

  

  

  
        তোর  ঘোরার শব্দে ভাই
  
        সদাই   শুনতে যেন পাই
ওই
  খুলল স্বরাজ-সিংহদুয়ার, আর বিলম্ব নাই।
ঘুরে
  আসল ভারত-ভাগ্য-রবি, কাটল দুখের রাত্রি ঘোর॥

  

  

  
       ঘর ঘর তুই ঘোর রে জোরে
  
        ঘর্ঘরঘর ঘূর্ণিতে তোর
  
              ঘুচুক ঘুমের ঘোর
  
        তুই    ঘোর ঘোর ঘোর।
তোর
  ঘুর-চাকাতে বল-দর্পীর তোপ কামানের টুটুক জোর॥

  

  

  
        তুই   ভারত-বিধির দান,
  
        এই  কাঙাল দেশের প্রাণ,
আবার
  ঘরের লক্ষ্মী আসবে ঘরে শুনে তোর ওই গান।
আর
  লুটতে নারবে সিন্ধু-ডাকাত বৎসরে পঁয়ষট্টি ক্রোড়॥

  

  

  
        হিন্দু-মুসলিম দুই সোদর,
  
        তাদের মিলন-সূত্র-ডোর রে
  
            রচলি চক্রে তোর,
  
       তুই  ঘোর ঘোর ঘোর।
আবার
  তোর মহিমায় বুঝল দু-ভাই মধুর কেমন মায়ের ক্রোড়॥

  

  

  
        ভারত  বস্ত্রহীন যখন
  
        কেঁদে  ডাকল – নারায়ণ!
তুমি
  লজ্জা-হারী করলে এসে লজ্জা নিবারণ,
তাই
  দেশ-দ্রৌপদীর বস্ত্র হরতে পারল না দুঃশাসন-চোর॥

  

  

  
        এই  সুদর্শন-চক্রে তোর
  
  অত্যাচারীর টুটল জোর রে ছুটল সব গুমোর
  
        তুই  ঘোর ঘোর ঘোর।
তুই
  জোর জুলুমের দশম গ্রহ, বিষ্ণু-চক্র ভীম কঠোর॥

  

  

  
        হয়ে  অন্নবস্ত্রহীন
  
        আর  ধর্মে কর্মে ক্ষীণ
দেশ
  ডুবছিল ঘোর পাপের ভারে যখন দিনকে দিন,
তখন
  আনলে অন্ন পুণ্য-সুধা, খুললে স্বর্গ মুক্তি-দোর॥

  

  

  
        শাসতে জুলুম নাশতে জোর
  
        খদ্দর-বাস বর্ম তোর রে অস্ত্র সত্যডোর,
  
        তুই  ঘোর ঘোর ঘোর।
মোরা
  ঘুমিয়ে ছিলাম, জেগে দেখি চলছে চরকা, রাত্রি ভোর॥

  

  

  
        তুই  সাত রাজারই ধন,
  
        দেশ-  মা-র পরশ-রতন,
তোর
  স্পর্শে মেলে স্বর্গ অর্থ কাম মোক্ষ ধন।
তুই
  মায়ের আশিস, মাথার মানিক, চোখ ছেপে বয় অশ্রু-লোর॥
বিষের বাঁশী সূচী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
ভালো লাগা জানান
Scroll Up