এযাবৎ 50 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।

আবির্ভাব

নাই তা—জতাজ : মুকুট।
তাই লা—জ?
ওরে মুসলিম, খর্জুর-শীষে তোরা সাজ!
করে তসলিম তসলিম : সালাম, প্রণাম। হর কুর্নিশে শোর্‌ আ—ওয়াজশোর আ-ওয়াজ — বিরাট বিপুল ধ্বনি।
শোন কোন মুজ্‌দামুজ্‌দা : খোশখবর, সুসংবাদ। সে উচ্চারে হেরাহেরা : আরবের হেরা নাম পর্বত। এই গিরি-গুহায় হজরত মোহাম্মদ (দঃ) সাধনায় সিদ্ধি লাভ করেন। আজ
ধরা-মাঝ!
উরজ্ য়্যামেন্ নজ্‌দ হেজাজ তাহামাউরজ্, য়্যামেন, নজদ, হেজাজ, তাহামা – আরবের পাঁচটি প্রদেশের নাম। ইরাক ইরাক : মেসোপটেমিয়া প্রদেশ। শামশাম : সিরিয়া প্রদেশ।
মেশেরমেশের : মিশর দেশ। ওমানওমান : আরবের এক ছোট রাজ্য। তিহারানতিহারান — ইরাণের রাজধানী।-স্মরি কাহার বিরাট নাম।
পড়ে ‘সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্‌লাম।’সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্‌লাম : আরবী ভাষায় উচ্চারিত ‘দরুদ’ বা শান্তিবাণী। মুসলমান মাত্রেরই হজরতের নামের শেষে এই ‘দরুদ’ পাঠ করা একান্ত কর্তব্য। ইহার অর্থ –‘তাঁহার উপর খোদার শান্তি ও করুণাধারা বর্ষিত হউক।’
চলে আঞ্জামআঞ্জাম : আয়োজন।
দোলেতাঞ্জামতাঞ্জাম : সওয়ারী।
খোলে হুর-পরীহুর-পরী : অপ্সরা-কিন্নরী। মরি ফিরদৌসেরফিরদৌস : স্বর্গ। হাম্মামহাম্মাম : স্নানাগার।!
টলে কাঁখের কলসে কওসর কওসর : অমৃত। ভরভর : ভরা, পূর্ণ।, হাতে আব-জম-জমআব-জম-জম : মক্কার ‘জমজম’ নামক কূপের পবিত্র জল। জামজাম : পেয়ালা।
শোন দামামদামাম : দামামা। কামান তামামতামাম : সমস্ত। সামানসামান : সাজ-সরঞ্জাম।
নির্ঘোষি কার নাম
পড়ে ‘সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্লানম।’
মস্‌      তানমস্‌ তান : মস্তান, পাগলা।!
ব্যস থাম্!
দেখ মশ্‌গুল আজি শিস্তান-বোস্তানশিস্তান-বোস্তান : শিস্তানের ফুল-বাগিচা।,
তেগতেগ : তলোয়ার।গর্দানে ধরি দারোয়ান রোস্তাম
রোস্তাম : পারস্যের জগদ্‌বিখ্যাত দিগ্‌বিজয়ী বীর।
বাজে কাহারবা বাজা, গুলজারগুলজার : সরগরম। গুলশান
গুলশান : পুষ্প-বাটিকা।
গুলফামগুলফাম : গোলাবি রঙ্গিন।!
দক্ষিণে দোলে আরবি দরিয়াদরিয়া : আরব সাগর। খুশিতে সে বাগবাগে-বাগ : আহ্লাদে আটখানা।,
পশ্চিমে নীলানীলা : নীলবর্ণ জলবিশিষ্ট। ‘লোহিতে’রলোহিত : লোহিত সমুদ্রের। খুন-জোশিতেখুন-জোশ : রক্ত-উত্তেজনায়। রে লাগে আগ,
মরু সাহারা গোবিতে সব্‌জারসব্‌জার : হরিতের। জাগে দাগ!
নূরে
নূর : জ্যোতিতে।
কুর্শিরকুর্শি : খোদার সিংহাসনের আসন।।
পুরে ‘তূর’-তূর : আরবের তূর নামক পর্বত।-শির,
দূরেঘূর্ণির তালে সুর বুনে হুরি ফুর্তির,
ঝুরেসুর্খীরসুর্খী : লালিমার। ঘন লালি উষ্ণীষে ইরাণীইরাণী : পারস্যের অধিবাসী। দূরাণীদূরাণী : কাবুলি। তুর্কির!
আজ বেদুইন তার ছেড়ে দিয়ে ঘোড়া ছুড়ে ফেলে বল্লম
পড়ে ‘সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাললাম।’
সাবে  ঈন সাবেঈন : আরবের মূর্তিপূজকগণ।
তাবে   ঈনতাবেঈন : আজ্ঞাবহ।
হয়ে চিল্লায় জোর ‘ওই ওই নাবে দীনদীন : সত্যধর্ম।!’
ভয়ে ভূমি চুমে ‘লাত্ মানাত’লাত মানাত : আরবের মূর্তিপূজকগণের ঠাকুরদের নাম।-এর ওয়ারেশিনওয়ারেশিন : উত্তরাধিকারিগণ, (এখানে) ওই মূর্তিসমূহের দলবল।
রোয়ে ওয্‌যা-হোবলওয্‌যা-হোবল : আরব মূর্তিপূজারীদের দুই প্রধান প্রতিমা। ইবলিসইবলিস : শয়তান। খারেজিনখারেজিন : এক বদমায়েশ-সম্প্রদায়।,–
কাঁপে জীন্জীন্ : দৈত্য, genii।!
জেদ্দারজেদ্দার : জেদ্দা বন্দর। পূবে মক্কা মদিনা চৌদিকে পর্বত,
তারই মাঝে ‘কাবা’কাবা : মক্কার বিশ্ববিখ্যাত মস্‌জিদ।। আল্লার ঘর দুলে আজ হর ওক্ত্ওক্ত্ : সর্বদা।,
ঘন উথলে অদূরে ‘জম-জম’ শরবৎ!
পানি কওসর,
মণি জওহর
আনি ‘জিবরাইল’জিবরাইল : স্বর্গীয় দূত। আজ হরদম দানে গওহরগওহর : মতি।,
টানি মালিক-উল-মৌতমালিক-উল-মৌত : ফেরেশতার (স্বর্গীয় দূত) নাম; জীবের জীবন-সংহার এই যমরাজের হাতে। জিঞ্জিরজিঞ্জির : শেকল।–বাঁধে মৃত্যুর দ্বার লৌহর।
হানি বরষা সহসা ‘মিকাইল’মিকাইল : ফেরেশতা। করে
ঊষর আরবে ভিঙাভিঙা : সরসা।,
বাজে নব সৃষ্টির উল্লাসে ঘন ‘ইসরাফিল’ইসরাফিল : প্রলয়-বিষাণ-মুখে এক ফেরেশ্‌তা।-এর শিঙা!
জঞ্‌ জাল
কঙ্ কাল
ভেদি,— ঘন জাল মেকি গণ্ডির পঞ্জার
ছেদি,— মরুভূতে একী শক্তির সঞ্চার!
বেদি— পঞ্জরে রণে সত্যের ডঙ্কার
ওঙ্কার!
শঙ্কারে করি লঙ্কার পার কার ধনু-টংকার
হুঙ্কারে ওরে সাচ্চা-সরোদে শাশ্বত ঝঙ্কার?
ভূমা— নন্দে রে সব টুটেছে অহঙ্কার!
মর- মর্মরে
নর- ধর্ম রে
বড় কর্মরে দিল ঈমানেরঈমান : বিশ্বাস। জোর বর্ম রে,
ভর্ দিল্ জান্ – পেয়ে শান্তি নিখিল ফিরদৌসের হর্ম্য রে!
রণে তাই তো বিশ্ব-বয়তুল্লাতেবয়তুল্লা : বিশ্বরূপ ‘কাবা’ আল্লার ঘর।
মন্ত্র ও জয়নাদ–
‘ওয়ে মার্‌হাবা ওয়েওয়ে : ওগো, বাছা। মার্‌হাবামার্‌হাবা : সাবাস। এয়্ সর্‌ওয়ারে কায়েনাতকায়েনাত : সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ।!’
শর্— ওয়ানশর-ওয়ান : নওশেরওয়ান নামক পারস্যের বিখ্যাত দানশীল বাদশাহ্।
দর্— ওয়ান
আজি বান্দাবান্দা : হুজুরে-হাজির গোলাম, বন্দনাকারী। যে ফেরউন শাদ্দাদ নমরুদ মারোয়ানমারোয়ান : বিখ্যাত ঈশ্বরদ্রোহী সব।;
তাজিতাজি : দ্রুতগামী অশ্ব। বোর্‌রাক্বোর্‌রাক্ : উচ্চৈঃশ্রবার মতো স্বর্গের শ্রেষ্ঠ অশ্ব। হাঁকে আশমানে পর্‌ওয়ান, –
ও যে বিশ্বের চির সাচ্‌চারই বোর্‌হানবোর্‌হান : প্রমাণ।
‘কোর-আন’!
‘কোন্ জাদুমণি এলি ওরে’ – বলি রোয়েরোয় : কাঁদে। মাতা আমিনায়আমিনা : হজরত মোহম্মদ (দঃ) জননির নাম।
খোদার হবিবেহবিব : আল্লার বন্ধু (হজরতের খেতাব)। বুকে চাপি, আহা, বেঁচে আজ স্বামী নাই!
দূরে আব্‌দুল্লারআব্‌দুল্লা : হজরতের স্বর্গগত পিতা। রুহ্
রুহ্ : আত্মা।
কাঁদে, “ওরে আমিনারে গমি নাইনাই : দুঃখ কোরো না।
দেখো সতী তব কোলে কোন্ চাঁদ, সব ভর-পুর ‘কমি’ নাইকমি নাই : আজ কিছু অপূর্ণ নাই।।’
‘এয়্ ফর্ জন্দ’এয়্ ফর্ জন্দ : পুত্র, বংশধর।
হায় হর্‌দম্
ধায় দাদা মোত্‌লেব কাঁদি, – গায়ে ধুলা কর্দম!
‘ভাই! কোথা তুই?’ বলি বাচ্চারে কোলে কাঁদিছে
হাম্‌জাহাম্‌জা : হজরতের যুদ্ধবিশারদ পিতৃব্য, যিনি ওহদের যুদ্ধে শহিদ হন। দুর্দম!
ওই দিক্‌হারা দিক্‌পার হতে জোর-শোর আসে,
‘কালাম’কালাম : বাণী।
‘এয় ‘শাম্‌সোজ্জোহা বদরোদ্দোজা কামারোজ্জমাঁ’কামারোজ্জমাঁ : বিশ্বনবীর বিশেষণ তিনটি। সালাম!’
কুঞ্জিকা— তাজ—মুকুট। তসলিম—সালাম, প্রণাম। শোর্‌-আওয়াজ—বিরাট বিপুল ধ্বনি। মুজ্‌দা—খোশ্‌খবর, সুসংবাদ। হেরা—আরবের হেরা নামক পর্বত। এই গিরি-গুহায় হজরত মোহাম্মদ (সা) সাধনায় সিদ্ধি লাভ করেন। উরজ্, য়্যামেন্, নজ্‌দ, হেজাজ, তাহামা—আরবের পাঁচটি প্রদেশের নাম। ইরাক—মেসোপটেমিয়া প্রদেশ। শাম—সিরিয়া প্রদেশ। মেসের—মিশর দেশ। ওমান—আরবের এক ছোট রাজ্য। সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্‌লাম—আরবী ভাষায় উচ্চারিত ‘দরুদ’ বা শান্তিবাণী। মুসলমান মাত্রেরই হজরতের নামের শেষে এই ‘দরুদ’ পাঠ করা একান্ত কর্তব্য। ইহার অর্থ—’তাঁহার উপর খোদার শান্তি ও করুণাধারা বর্ষিত হউক।’
আন্‌জাম—আয়োজন। তান্‌জাম—সওয়ারী। ফিরদৌস—স্বর্গ। হাম্মাম—স্নানাগার। কওসর—অমৃত। ভর—ভরা, পূর্ণ। হুর-পরী—অপ্সরী-কিন্নরী। আব্-জমজম—মক্কার ‘জমজম’ নামক কূপের পবিত্র পানি। জাম—পেয়ালা। দামাম—দামামা। তামাম—সমস্ত। সামান—সাজ-সরঞ্জাম। মস্‌তান—মস্তানা, পাগল। ব্যস্‌ থাম—ব্যস, থামো। শিস্তান-বোস্তান—শিস্তানের ফুলবাগিচা। তেগ—তলোয়ার। গর্দানে—স্কন্ধে। রোস্তাম—পারস্যের জগদ্বিখ্যাত দিগ্বিজয়ী বীর। কাহার্‌বা—তালের নাম। গুল্‌জার—মাৎ। গুলশান—পুষ্পবাটিকা। গুলফাম—গোলাবী নীলবর্ণ জলবিশিষ্ট। লোহিতের—লোহিত সমুদ্রের। খুন-জোশিতে—রক্ত-উত্তেজনায়। আগ—আগুন। সাহারা, গোবী—দুই বিশাল মরুভূমির নাম। সব্‌জার—হরিতের। নূরে—জ্যোতিতে। কর্শি—খোদার সিংহাসনের আসন। তূর—আরবের তূর নামক পর্বত। সুর্খীর—লালিমার। লালী—অরুণিমা। ইরাণী—পারস্যের অধিবাসী। দূরাণী—কাবুলী। তুর্কি—তুরস্কের অধিবাসী।
‘সাবেঈন’—আরবের মূর্তিপূজকগণ। ‘তাবেঈন—আজ্ঞাবহ। চিল্লায়—চিৎকার করে। ‘দীন’—সত্যধর্ম। ‘লাৎ-মানাৎ’—আরবের মূর্তিপূজকগণের ঠাকুরদের নাম। ওয়ারেশিন—উত্তরাধিকারীগণ, (এখানে) ঐ মূর্তিসমূহের দলবল।
‘ওয্‌যা-হোবল’—আরব মূর্তি-পূজারীদের দুই প্রধান প্রতিমা। ইব্‌লিস—শয়তান। খারেজিন—এক বদমায়েশ সম্প্রদায়। জিন—দৈত্য; genii. জেদ্দা—জেদ্দা বন্দর। মদিনা—শহর (‘মদিনা নামক শহর নয়’)। কাবা—মক্কার বিশ্ববিখ্যাত মসজিদ। হর্ ওক্ত— সর্বদা। হরদম্—সদাসর্বদা। গওহর—মতি। মালিক-উল-মৌত—ফেরেশতার (স্বর্গীয় দূত) নাম; জীবের জীবন-সংহার এই যমরাজের হাতে। জিঞ্জির—শৃঙ্খল। ‘মিকাইল’—ফেরেশতা। ভিঙ্গা—সরসা। ইস্‌রাফিল—প্রলয়-বিষাণ-মুখে এক ফেরেশতা। জঞ্‌জাল—জঞ্জাল। কঙ্‌কাল—কঙ্কাল। সরোদ—এক তারের যন্ত্রের নাম।
ঈমান—বিশ্বাস। বিশ্ব-বয়তুল্লাহ্—বিশ্বরূপ ‘কাবা’ বা আল্লাহর ঘর। ওয়ে—ওগো, বাছা। মারহাবা—সাবাস। সরওয়ারে কায়েনাত—সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। শর্‌ওয়ান—নওশেরওয়ান নামক পারস্যের বিখ্যাত দানশীল বাদশাহ। বান্দা-হুজুরে—হাজির গোলাম, বন্দনাকারী। ফেরাউন, শাদ্দাদ, নমরুদ, মারওয়ান—বিখ্যাত ঈশ্বরদ্রোহী সব। তাজি—দ্রুতগামী অশ্ব। বোররাক—উচ্চৈঃশ্রবার মতো স্বর্গের শ্রেষ্ঠ অশ্ব। আসমান—আকাশ। পরওয়ান—পরোয়ান। সাচ্চারই—সত্যেরই। বোরহান—প্রমাণ। রোয়ে—কাঁদে। আমিনা—হজরত মোহাম্মদ (সা) জননীর নাম। খোদার হাবীব—আল্লাহর বন্ধু (হজরতের খেতাব)। আবদুল্লাহ—হজরতের স্বর্গগত পিতা। রুহ—আত্মা। ‘গমি’—দুঃখ। গমি নাই—দুঃখ করো না। ভরপূর—পূর্ণ। ‘কমি’—অপূর্ণ। ‘কমি নাই’—আজ কিছু অপূর্ণ নাই।

তিরোভাব

এ কী বিস্ময়! আজরাইলেরওআজরাইল : যমদূত। জলে ভর-ভর চোখ!
বে-দরদদরদ : নির্মম। দিল্ কাঁপে থর-থর যেন জ্বর-জ্বর শোক।
জান-মরা তার পাষাণ-পাঞ্জা বিলকুল ঢিলা আজ,
কব্‌জা নিসাড়, কলিজা সুরাখসুরাখ : ঝাঁঝরা। , খাকখাক : মাটি। চুমে নীলা তাজতাজ : আজরাইলের মাথার তাক নীলবর্ণ।
জিব্‌রাইলেরজিব্‌রাইল : প্রধান ফেরেশ্‌তা ও স্বর্গীয় বার্তাসহ। আতশিআতশি : অগ্নিময়। পাখা সে ভেঙে যেন খান খান,
দুনিয়ার দেনা মিটে যায় আজ তবু জান আন্-চান!
  মিকাইলমিকাইল : একজন ফেরেশ্‌তার নাম। অবিরল
লোনা    দরিয়ার সবই জল
ঢালে    কুল মুল্লুকেমুল্লুক : সর্বদেশে। , ভীম বাতে খায় অবিরল ঝাউ দোল।
এ কি    দ্বাদশীর চাঁদ আজ সেই? সেই রবিয়ল আউওলআউওল : হিজরি সালের তৃতীয় মাস। ?
  
  
ঈশানে কাঁপিছে কৃষ্ণ নিশান, ইস্‌রাফিলেরইস্‌রাফিল : প্রলয়-বিষাণধারী ফেরেশ্‌তা। ও প্রলয়-বিষাণ আজ
কাতরায় শুধু! গুমরিয়া কাঁদে কলিজা-পিষানো বাজ!
রসুলেররসুল : প্রেরিত পুরুষ। দ্বারে দাঁড়ায়ে কেন রে আজাজিলআজাজিল : শয়তানের নাম। শয়তান?
তারও বুক বেয়ে আঁশু ঝরে, ভাসে মদিনার ময়দান!
জমিন্-আশমান জোড়া শির পাঁও তুলি তাজি বোর্‌রাক্বোর্‌রাক্: স্বর্গীয় ঘোড়া। ,
চিখ্ মেরে কাঁদে ‘আরশে’আরশ : খোদার সিংহাসন। র পানে চেয়ে, মারে জোর হাঁক!
হুরপরি শোকে হায়
জল-    ছলছল চোখে চায়।
আজ    জাহান্নমের বহ্নি-সিন্ধু নিবে গেছে ক্ষরি জল,
যত    ফিরদৌসেরফিরদৌস : বেহেশত, স্বর্গ বিশেষের নাম। নার্গিস-লালানার্গিস-লালা : ফুলের নাম। ফেলে আঁশু-পরিমল।
  
  
মৃত্তিকা-মাতা কেঁদে মাটি হল বুকে চেপে মরা লাশ,
বেটার জানাজা
জানাজা : কবরে মৃতদেহ স্থাপনের আগে পঠিত নামাজ।
কাঁদে যেন – তাই বহে ঘন নাভি-শ্বাস!
পাতাল-গহ্বরে কাঁদে জিন, পুন মলো কি রে সোলেমানসোলেমান : বিশ্বখ্যাত সুবিচারী সম্রাট ও নবি। ?
বাচ্চারে মৃগী দুধ নাহি দেয়, বিহগীরা ভোলে গান!
ফুল পাতা যত খসে পড়ে, বহে উত্তর-চিরা বায়ু,
ধরণির আজ শেষ যেন আয়ু, ছিঁড়ে গেছে শিরা স্নায়ু!
  মক্কা ও মদিনায়
আজ    শোকের অবধি নাই!
যেন    রোজ-হাশরেররোজ-হাশর : শেষ বিচার। ময়দান, সব উন্মাদসম ছুটে।
কাঁপে    ঘন ঘন কাবাকাবা : মক্কা মসজিদে রক্ষিত বিশাল কালো পাথর। , গেল গেল বুঝি সৃষ্টির দম টুটে।
  
নকিবের তূরী ফুৎকারি আজ বারোয়াঁর সুরে কাঁদে,
কার তরবারি খান খান করে চোট মারে দূরে চাঁদে?
আবুবকরের
আবুবকর : হজরতের প্রিয়তম শিষ্য, প্রথম খলিফা।
দর দর আঁশু দরিয়ার পারা ঝরে,
মাতা আয়েষার
আয়েষা : হজরতের পত্নী, আবুবকরের বিদূষী কন্যা।
কাঁদনে মুরছে আশমানে তারা ডরে!
শোকে উন্মাদ ঘুরায় উমর
উমর : হজরতের প্রিয় শিষ্য, দ্বিতীয় খলিফা।
ঘূর্ণির বেগে ছোরা,
বলে ‘আল্লার আজ ছাল তুলে নেব মেরে তেগ্তেগ্ : ছোরা। , দেগে কোঁড়াকোঁড়া : চাবুক, বেত।।’
হাঁকে ঘন ঘন বীর –
‘হবে,   জুদাজুদা : আলাদা, পৃথক। তার তনতন : দেহ। শির,
আজ যে বলিবে নাই বেঁচে হজরত – যে নেবে রে তাঁরে গোরে।’
আজ দারাজ দস্তেদস্তে : বিশাল হাতে। তেজ হাতিয়ার বোঁও বোঁও করে ঘোরে!
  
  
গুম্বজে কে রে গুমরিয়া কাঁদে মসজিদে মস্‌জিদে?
মুয়াজ্জিনেরমুয়াজ্জিন : নামাজের সময়-ঘোষণাকারী। হোশ্ নাই, নাই জোশ চিতে, শোষ হৃদে!
বেলালেরওবেলালের : ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন। আজ কণ্ঠে আজান ভেঙে যায় কেঁপে কেঁপে,
নাড়ি-ছেঁড়া এ কী জানাজার ডাক হেঁকে চলে ব্যেপে ব্যেপে!
উস্‌মানের আর হুঁশ নাই কেঁদে কেঁদে ফেনা উঠে মুখে,
আলি হাইদরহাইদর : হজরতের ভ্রাতা ও জামাতা, চতুর্থ খলিফা। ঘায়েল আজি রে বেদনার চোটে ধুঁকে!
আজ    ভোঁতা সে দুধারি ধার
ওই      আলির জুলফিকারজুলফিকার : হজরত আলির তলোয়ার। !
আহা রসুল-দুলালি আদরিণী মেয়ে মা ফাতেমাফাতেমা : হজরতের কন্যা ও হাসান-হুসেনের জননী। ওই কাঁদে,
‘কোথা    বাবাজান।’ বলি মাথা কুটে কুটে এলোকেশ নাহি বাঁধে!
  
  
হাসান-হুসেন তড়পায় যেন জবে-করা কবুতর,
‘নানাজান কই!’ বলি খুঁজে ফেরে কভু বার কভু ঘর।
নিবে গেছে আজ দিনের দীপালি, খসেছে চন্দ্র-তারা,
আঁধিয়ারা হয়ে গেছে দশ দিশি, ঝরে মুখে খুন-ঝারা!
সাগর-সলিল ফোঁপায়ে উঠে সে আকাশ ডুবাতে চায়,
শুধু   লোনা জল তার আঁশু ছাড়া কিছু রাখিবে না দুনিয়ায়।
খোদ    খোদা সে নির্বিকার,
আজ    টুটেছে আসনও তাঁর!
আজ সখা মহ্‍বুবেমহ্‍বুব : প্রেমাস্পদ, প্রিয় বন্ধু। বুকে পেতে দুখে কেন যেন কাঁটা বেঁধে,
তারে ছিনিবে কেমনে যার তরে মরে নিখিল সৃষ্টি কেঁদে!
  
বেহেশ্‌ত সব আরাস্তাআরাস্তা : সজ্জিত। আজ, সেথা মহা ধুম-ধাম,
গাহে হুরপরি যত, ‘সাল্লালাহু আলায়হি সাল্‌লাম।’
কাতারে কাতারে করজোড়ে সবে দাঁড়ায়ে গাহিছে জয়, –
ধরিতে না পেরে ধরা-মা-র চোখে দর দর ধারা বয়।
এসেছে আমিনাআমিনা : হজরতের জননী। আবদুল্লাআবদুল্লা : হজরতের পিতা। কি, এসেছে খদিজাখদিজা : হজরতের প্রথম পত্নী। সতী?
আজ জননীর মুখে হারামণি-পাওয়া-হাসা হাসে জগপতি!
‘খোদা,    একী তব অবিচার!’
বলে    কাঁদে সুত ধরা-মা-র।
আজ অমরার আলো আরও ঝলমল, সেথা ফোটে আরও হাসি,
শুধু   মাটির মায়ের দীপ নিভে গেল, নেমে এল অমা-রাশি
  
* * * * *
  
আজ স্বরগের হাসি ধরার অশ্রু ছাপায়ে অবিশ্রাম
ওঠে একী ঘন রোল – ‘সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্‌লাম।’
আজরাইল—যমদূত। বে-দরদ—নির্মম। সুরাখ—ঝাঁঝরা। খাক্—মাটি। নীলা তাজ—আজরাইলের মাথার তাজ নীলবর্ণ। জিবরাইল—প্রধান ফেরেশতা ও স্বর্গীয় বার্তাবহ। আতশি—অগ্নিময়। মিকাইল—একজন ফেরেশতার নাম। কুল মুল্লুকে—সর্বদেশে। ইসরাফিল—প্রলয়-বিষাণধারী ফেরেশতা। রসুল—প্রেরিত পুরুষ। আজাজিল—শয়তানের নাম। তাজি বোররাক—বোররাক নামাক স্বর্গীয় ঘোড়া। আরশ—খোদার সিংহাসন। ফিরদৌস—বেহেশত, স্বর্গবিশেষের নাম। নার্গিস-লালা—ফুলের নাম। তন্—দেহ। দরাস দস্তে—বিশাল হাতে। জুলফিকার—হজরত আলীর দুধারী তলোয়ার। মাহবুব—প্রিয়।
বিষের বাঁশী সূচী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
ভালো লাগা জানান
Scroll Up