এযাবৎ 45 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
‘চক্রবাক’ প্রথম সংস্করণ ১৩৩৬ (আগষ্ট ১৯২৯) সালে প্রকাশিত হয়। প্রকাশক শ্রী গোপালদাস মজুমদার; ডি. এম. লাইব্রেরি, ৬১, কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রিট, কলিকাতা। প্রবাসী প্রেস, ৯১, আপার সার্কুলার রোড, কলিকাতা হতে শ্রীসজনীকান্ত দাস কর্তৃক মুদ্রিত। পৃষ্টা সংখ্যা ৪+৭৮। মূল্য দেড় টাকা।
চক্রবাক কাব্যে ‘উৎসর্গ’ ও গোড়ার শিরোনামহীন কবিতাটি ছাড়া আরও একুশটি কবিতা প্রকাশিত হয়। সেগুলো হচ্ছে— (১) তোমারে পড়িছে মনে, (২) বাদল-রাতের পাখি, (৩) স্তব্ধরাতে, (৪) বাতায়ন-পাশে গুবাক তরুর সারি, (৫) কর্ণফুলী, (৬) শীতের সিন্ধু, (৭) পথচারী, (৮) মিলন-মোহনায়, (৯) গানের আড়াল, (১০) ভীরু, (১১) এ মোর অহঙ্কার, (১২) তুমি মোরে ভুলিয়াছ, (১৩) হিংসাতুর, (১৪) বর্ষা-বিদায়, (১৫) সাজিয়াছি বর মৃত্যুর উৎসবে, (১৬) অপরাধ শুধু মনে থাক, (১৭) আড়াল, (১৮) নদীপারের মেয়ে, (১৯) ১৪০০ সাল, (২০) চক্রবাক ও (২১) কুহেলিকা।
১৯২৯ সালের জানুয়ারিতে কাজী নজরুল ইসলাম আবার চট্টগ্রামে আসেন এবং তামাকুমণ্ডিতে অবস্থান করেন। এ-সময় চক্রবাকের সূচনা কবিতা (ওগো ও চক্রবাকী) ‘বাদল-রাতের পাখি’, ‘স্তব্ধ-রাতে’, ‘বাতায়ন-পাশে গুবাক তরুর সারি’, ‘কর্ণফুলী’, ‘শীতের সিন্ধু’ এবং অন্যান্য গ্রন্থভুক্ত আরও কবিতা ও গান রচিত হয়। অধ্যাপিকা সেলিনা বাহার জামানের কাছে রক্ষিত পাণ্ডুলিপিতে দেখা যায়, ‘শীতের সিন্ধু’ কবিতাটি ‘সিন্ধু—চতুর্থ তরঙ্গ’ রূপে রচিত হয়। মনে হয়, ছন্দের পার্থক্যের কারণে পরে কবি এর ভিন্ন নাম দেন।
রচনা ও প্রথম প্রকাশ
  1. তোমারে পড়িছে মনে,— ‘ধূপছায়া’ ভাদ্র, ১৩৩৫ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
  2. বাদল-রাতের পাখি,
  3. স্তব্ধরাতে, — ‘ধূপছায়া’ মাঘ, ১৩৩৫ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
  4. বাতায়ন-পাশে গুবাক তরুর সারি, — ‘কালিকলম’ চৈত্র, ১৩৩৫ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়, রচনার স্থান চট্টগ্রাম, তারিখ ২৪-১-২৯।
  5. কর্ণফুলী, — সাপ্তাহিক আত্মশক্তিতে প্রকাশিত হয়।
  6. শীতের সিন্ধু,
  7. পথচারী, — ১৩৩৬ জ্যৈষ্ঠের উপাসনায় প্রকাশিত হয়।
  8. মিলন-মোহনায়,
  9. গানের আড়াল, — ১৩৩৫ পৌষের ধূপছায়ায় প্রকাশিত হয়।
  10. ভীরু, — ১৩৩৪ ভাদ্রের নওরোজে প্রকাশিত হয়, এবং ১৩৩৫ সালের প্রকাশিত ‘জিঞ্জীর’ কাব্যগ্রন্থের গ্রন্থিত হয়।
  11. এ মোর অহঙ্কার, — ১৩৩৪ চৈত্রের সওগাতে প্রকাশিত হয়। এরপর ১৩৩৫ সালে ‘জিঞ্জীর’ কাব্যে গ্রন্থিত হয়। কবিতাটিতে ১৩টি স্তবক ছিল, কিন্তু চক্রবাকে এর ষষ্ঠ স্তবক বর্জিত হয়েছিল।
  12. তুমি মোরে ভুলিয়াছ, — ১৩৩৫ বৈশাখের সওগাতে ‘রহস্যময়ী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এ সম্পর্কে কবি কলিকাতা হতে ৩১-৩-১৯২৮ তারিখের এক পত্রে ঢাকায় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন সাহেবকে লিখেন—

“আমি আবার বিষ্যুৎবার কলকাতা ফিরে আসব। সেদিন সন্ধ্যায় Broadcusting-এ আমার গান গাইতে হবে। … আমি বিষ্যুৎবারে দুটো গান ও আমার নতুন কবিতা ‘রহস্যময়ী’ আবৃত্তি করব। ‘রহস্যময়ী’ চৈত্রের সওগাতে বেরুবে। ওর ‘তুমি মোরে ভুলিয়াছ’ নামটা বদলে ‘রহস্যময়ী’ করেছি।‘

—[নজরুল-জীবনে প্রেমের এক অধ্যায়, ৬৩ পৃ.]
  1. হিংসাতুর, — ১৩৩৫ জ্যৈষ্ঠের সওগাতে প্রকাশিত হয়। এর রচনাস্থান ও তারিখ— ‘কলিকাতা, ২৯-৩-২৮। এই কবিতাটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াই কবি তাঁহার প্রথমা (পরিত্যক্তা) পত্নীকে কলিকাতা হতে ১-৭-৩৭ তারিখে এক পত্রের শেষে P.S. (পুনশ্চ) দিয়া লিখেন—

“আমার ‘চক্রবাক’ নামক কবিতা-পুস্তকের কবিতাগুলো পড়েছ? তোমার অভিযোগের উত্তর পাবে তাতে। তোমার কোনো পুস্তকে আমার সম্বন্ধে কুটক্তি ছিল।“

—[নজরুল-রচনা-সম্ভার, প্রথম সংস্করণ, ২৩৮ পৃ.]
  1. বর্ষা-বিদায়, — ১৩৩৫ ভাদ্রের সওগাতে প্রকাশিত হয়।
  2. সাজিয়াছি বর মৃত্যুর উৎসবে, — ১৩৩৫ বৈশাখের প্রগতিতে প্রকাশিত হয়।
  3. অপরাধ শুধু মনে থাক,
  4. আড়াল, — ১৩৩৬ আষাঢ়ের কল্লোলে প্রকাশিত হয়।
  5. নদীপারের মেয়ে, — ১৩৩৫ বৈশাখের কালিকলমে প্রকাশিত হয়।
  6. ১৪০০ সাল, — ১৩৩৪ আষাঢ়ের কল্লোলে ‘আজি হতে শতবর্ষ আগে’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। কল্লোল হতে ১৩৩৪ আষাঢ়ের নওরোজে উদ্ধৃত হয়।
  7. চক্রবাক
  8. কুহেলিকা — ১৩৩৫ মাঘের মোয়াজ্জিনে প্রকাশিত হয়।
ভীরু এবং ‘এ মোর অহঙ্কার’ কবিতা দুটি ‘জিঞ্জীর’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ‘চক্রবাক’ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বাংলা একাডেমিকে অনুসরণ করে, নজরুল রচনাবলীতে চক্রবাকের প্রথম সংস্করণের পাঠ অনুসৃত হয়েছে।
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
Scroll Up