এযাবৎ 50 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
ওই
রাঙা পায়ে রাঙা আলতা প্রথম যেদিন পরেছিলে,
  
সেদিন তুমি আমায় কি গো ভুলেও মনে করেছিলে –
  
                  আলতা যেদিন পরেছিলে?

  

  
জানি, তোমার নারীর মনে নিত্য-নূতন পাওয়ার পিয়াস
  
হঠাৎ কেন জাগল সেদিন, কণ্ঠ ফেটে কাঁদল তিয়াস!
  
          মোর আসনে সেদিন রানি
  
          নূতন রাজায় বরলে আনি,
  
আমার রক্তে চরণ রেখে তাহার বুকে মরেছিলে –
  
                  আলতা যেদিন পরেছিলে।

  

  
মর্মমূলে হানলে আমার অবিশ্বাসের তীক্ষ্ম ছুরি,
  
সে-খুন সখায় অর্ঘ্য দিলে যুগল চরণ-পদ্মে পুরি।
  
          আমার প্রাণের রক্তকমল
  
          নিঙড়ে হল লাল পদতল,
  
সেই শতদল দিয়ে তোমার নতুন রাজায় বরেছিলে –
  
          আলতা যেদিন পরেছিলে।

  

  
আমায় হেলায় হত্যা করে দাঁড়িয়ে আমার রক্ত-বুকে
  
অধর-আঙুর নিঙড়েছিলে সখার তৃষা-শুষ্ক মুখে।
  
          আলতা সে নয়, সে যে খালি
  
          আমার যত চুমোর লালি!
  
খেলতে হোরি তাইতে, গোরি, চরণতরি ভরেছিলে –
  
          আলতা যেদিন পরেছিলে।

  

  
জানি রানি, এমনি করে আমার বুকের রক্তধারায়
  
আমারই প্রেম জন্মে জন্মে তোমার পায়ে আলতা পরায়!
  
          এবারও সেই আলতা-চরণ
  
          দেখতে প্রথম পায়নি নয়ন!
  
মরণ-শোষা রক্ত আমার চরণ-ধারে ধরেছিলে –
  
          আলতা যেদিন পরেছিলে।

  

  
কাহার পুলক-অলক্তকের রক্তধারায় ডুবিয়ে চরণ
  
উদাসিনী! যেচেছিলে মনের মনে আমার মরণ?
  
          আমার সকল দাবি দলে
  
          লিখলে ‘বিদায়’ চরণতলে!
  
আমার মরণ দিয়ে তোমার সখার হৃদয় হরেছিলে –
  
          আলতা যেদিন পরেছিলে।

  

বহরমপুর জেল
অগ্রহায়ণ ১৩৩১ [১৩৩০]
ছায়ানট সূচী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
ভালো লাগা জানান
Scroll Up