এযাবৎ 49 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
ঋতুর খাঞ্চা ভরিয়া এল কি ধরণীর সওগাত — উপহার। সওগাত?
নবীন ধানের আঘ্রাণে আজি অঘ্রাণ হল মাৎ।
‘গিন্নি-পাগল’ চালের ফিরনি — পায়স। ফিরনি
তশতরি ভরে নবীনা গিন্নি
হাসিতে হাসিতে দিতেছে স্বামীরে, খুশিতে কাঁপিছে হাত।
শিরনি বাঁধেন বড়ো বিবি, বাড়ি গন্ধে তেলেসমাৎ!
মিয়াঁ ও বিবিতে বড়ো ভাব আজি খামারে ধরে না ধান।
বিছানা করিতে ছোট বিবি রাতে চাপা সুরে গাহে গান!
শাশবিবি — শাশুড়ী। শাশবিবি’ কন, ‘আহা, আসে নাই
কতদিন হল মেজলা জামাই।’
ছোট মেয়ে কয়, ‘আম্মা গো, রোজ কাঁদে মেজো বুবুজান!’
দলিজ — বহির্বাটী। দলিজের পান সাজিয়া সাজিয়া সেজো-বিবি লবেজান!
হল্লা করিয়া ফিরিছে পাড়ায় দস্যি ছেলের দল।
ময়নামতীর শাড়ি-পরা মেয়ে গয়নাতে ঝলমল!
নতুন পৈঁচি-বাজুবন্দ পরে
চাষা-বউ কথা কয় না গুমোরে,
জারিগান আর গাজির গানেতে সারা গ্রাম চঞ্চল!
বউ করে পিঠা ‘পুর’-দেওয়া মিঠা, দেখে জিভে সরে জল!
মাঠের সাগরে জোয়ারের পরে লেগেছে ভাটির টান।
রাখাল ছেলের বিদায়-বাঁশিতে ঝুরিছে আমন ধান!
কৃষক-কণ্ঠে ভাটিয়ালি সুর
রোয়ে রোয়ে মরে বিদায়-বিধুর!
ধান ভানে বউ, দুলে দুলে ওঠে রূপ-তরঙ্গে বান!
বধূর পায়ের পরশে পেয়েছে কাঠের ঢেঁকিও প্রাণ!
হেমন্ত-গায় হেলান দিয়ে গো রৌদ্র পোহায় শীত!
কিরণ-ধারায় ঝরিয়া পড়িছে সূর্য–আলো-সরিৎ!
দিগন্তে যেন তুর্কি কুমারী
কুয়াশা- নেকাব — আবছা ঘোমটা। নেকাব রেখেছে উতারি।
চাঁদের প্রদীপ জ্বালাইয়া নিশি জাগিছে একা নিশীথ!
নতুনের পথ চেয়ে চেয়ে হল হরিৎ পাতারা পীত।
নবীনের লাল ঝাণ্ডা উড়ায়ে আসিতেছে কিশলয়,
রক্ত-নিশান নহে যে রে ওরা রিক্ত শাখার জয়!
মুজদা — খোশখবর। মুজ‍্দা’ এনেছে অগ্রহায়ণ –
আসে নওরোজ খোলো গো তোরণ!
গোলা ভরে রাখো সারা বছরের হাসি-ভরা সঞ্চয়।
বাসি বিছানায় জাগিতেছে শিশু সুন্দর নির্ভয়!
কলিকাতা
১০ কার্তিক ১৩৩৩
সওগাত — উপহার। ফির্‌নি — পায়স। শাশবিবি — শাশুড়ী। দলিজ — বহির্বাটী। নেকাব — আবছা ঘোমটা। মুজ্‌দা — খোশখবর।
জিঞ্জীর সূচী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
ভালো লাগা জানান
Scroll Up