এযাবৎ 50 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
শুরু করিলাম লয়ে নাম আল্লার
করুণা ও দয়া যাঁর অশেষ অপার।
বল, আমি শরণ যাচি ঊষাপতির,
হাত হতে তার – সৃষ্টিতে যা আছে ক্ষতির।
আঁধার-ঘন নিশীথ রাতের ভয় অপকার-
এ সব হতে অভয় শরণ যাচি তাঁহার।
জাদুর ফুঁয়ে শিথিল করে (কঠিন সাধন)
সংকল্পের বাঁধন, যাচি তার নিবারণ।
ঈর্ষাতুরের বিদ্বেষ যে ক্ষতি করে
শরণ যাচি, পানাহ্পানাহ্ : আশ্রয়, পরিত্রাণ। মাগি তাহার তরে।
অর্থ-সঙ্কেত
ফলক — উষা; প্রাতঃকাল। পানাহ—আশ্রয়, পরিত্রাণ।
সূরা-ফলক
মদীনা শরীফে অবতীর্ণ; ইহাতে ৫টি আয়াত, ২৩টি শব্দ, ৭৩টি অক্ষর ও ১টি রুকু। ‘ফলক’—ঊষা, প্রাতঃকাল। ইহা কোরআনের ধারাবাহিক ১১৩ নং সুরা।
শানে-নজুল
মদীনা শরীফের অধিবাসী লবিদ নামক একজন ইহুদির কয়েকটি কন্যা ছিল। তাহারা হজরত নবী করিমের মাথার কয়েকটি চুল ও চিরুনীর কয়েকটি দাঁতের উপর জাদুমন্ত্র পাঠ করিয়া এগারোটি গ্রন্থি দিয়াছিল এবং তাহা এক একটি খোর্মা মুকুলের মধ্যে রাখিয়া ‘যোরআন’ নামক কূপের তলদেশস্থ প্রস্তরের নিচে স্থাপন করিয়াছিল। এই জাদুর দরুন হজরতের শরীর এরূপ অসুস্থ হইয়াছিল যে, তিনি যে কাজ করেন নাই তাহাও করিয়াছেন বলিয়া কখনো কখনো তাঁহার ধারণা হইত। হজরত ছয় মাস কাল যাবৎ এরূপ ব্যাধিগ্রস্ত ছিলেন। এক রাত্রে তিনি স্বপ্নে জানিতে পারিলেন তাঁহার ঐ পীড়ার কারণ কী। প্রাতে হজরত আলী, আম্মার ও জোবায়েরকে ‘যোরআন’ কূপের দিকে প্রেরণ করেন। তাঁহারা উক্ত কূপের তলদেশ হইতে ঐসব দ্রব্য তুলিয়া হজরতের নিকট নিয়া হাজির করেন। তখন জিব্রাইল ‘ফলক’ ও ‘নাস’ এই দুই সুরা সহ অবতরণ করেন। এই দুই সুরায় এগারোটি আয়াত আছে। তিনি এক এক করিয়া ক্রমান্বয়ে এগারোটি আয়াত পাঠ করিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এক এক করিয়া উহার এগারোটি গ্রন্থি খুলিয়া গেল। অতঃপর হজরত সম্পূর্ণরূপে রোগ হইতে মুক্তি লাভ করিলেন।
—(এমাম এবনে কছির, জালালায়ন, কবীর)
এস্থলে ইহাও উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, জাদুমন্ত্র দ্বারা মানুষের শারীরিক ক্ষতি হওয়া অসমীচীন নয়; কিন্তু সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ জাদুমন্ত্র প্রভাবে স্বর্গীয় আদেশ প্রচারের কালে বিকারগ্রস্ত হইয়াছিলেন এরূপ ধারণা করা বাতুলতা মাত্র।
—(কবীর, হাক্কানী)
কাব্য আমপারা সূচী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
ভালো লাগা জানান
Scroll Up