এযাবৎ 48 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
।। ২৮ ।।
বেহাগ-খাম্বাজ—কাওয়ালি
অমর কানন মোদের অমর-কানন!
বন কে বলে রে ভাই, আমাদের তপোবন,
আমাদের তপোবন॥
এর
দক্ষিণে ‘শালী’ নদী কুলুকুলু বয়,
তার
কূলে কূলে শালবীথি ফুলে ফুলময়,
হেথা
ভেসে আসে জলে-ভেজা দখিনা মলয়,
হেথা
মহুয়ার মউ খেয়ে মন উচাটন॥
দূর প্রান্তর-ঘেরা আমাদের বাস,
দুধহাসি হাসে হেথা কচি দুব-ঘাস,
উপরে মায়ের মতো চাহিয়া আকাশ,
বেণু-বাজা মাঠে হেথা চরে ধেনুগণ॥
মোরা
নিজ হাতে মাটি কাটি, নিজে ধরি হাল,
সদা
খুশি-ভরা বুক হেথা হাসি-ভরা গাল,
মোরা
বাতাস করি গো ভেঙে হরিতকী-ডাল,
হেথা
শাখায় শাখায় শাখী, গানের মাতন॥
প্রহরী মোদের ভাই ‘পুরবী’ পাহাড়,
‘শুশুনিয়া’ আগুলিয়া পশ্চিমি দ্বার,
ওড়ে
উত্তরে উত্তরী কাননবিথার,
দূরে
ক্ষণে ক্ষণে হাতছানি দেয় তালি-বন॥
হেথা
খেত-ভরা ধান নিয়ে আসে অঘ্রান,
হেথা
প্রাণে ফোটে ফুল, হেথা ফুলে ফোটে প্রাণ,
ওরে
রাখাল সাজিয়া হেথা আসে ভগবান,
মোরা
নারায়ণ-সাথে খেলা খেলি অনুখন॥
মোরা
বটের ছায়ায় বসি করি গীতাপাঠ,
আমাদের পাঠশালা চাষি-ভরা মাঠ,
গাঁয়ে গাঁয়ে আমাদের মায়েদের হাট,
ঘরে ঘরে ভাইবোন বন্ধুস্বজন॥
গঙ্গাজলঘাটি, বাঁকুড়া
আষাঢ় ১৩৩২
বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাটি জাতীয় বিদ্যালয়টি নদী, পাহাড়, বন ও মাঠ-ঘেরা একটি প্রান্তরে। এর নাম ‘অমর-কানন’। এই বিদ্যালয় অমর নামক একটি তরুণের তপস্যার ফল। সে আজ স্বর্গে। এই গানটি ওই বিদ্যালয়ের ছেলেদের জন্য লিখিত। এগানটি ছায়ানট কাব্যেও সঙ্কলিত হয়েছিল।
নজরুল গীতিকা সূচী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
ভালো লাগা জানান
Scroll Up