এযাবৎ 50 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
১৩৪৫ সালে ‘নির্ঝর’ গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হইয়াছিল। প্রকাশক: মৌলবী ইমদাদ আলী খান, প্রো মোহসিন এণ্ড কোং; ৬৬/এ বৈঠকখানা রোড, কলিকাতা। মুদ্রাকর: শ্রীতারাপদ ব্যানার্জি, দি মডেল লিথো অ্যাণ্ড প্রিণ্টিং ওয়ার্কস, ৬৬/১ বৈঠকখানা রোড, কলিকাতা। ৯৬+২ পৃষ্ঠা। মূল্য এক টাকা। —কিন্তু কাব্যখানি যথারীতি বাঁধাই হইয়া বিক্রয়ার্থ বাজারে বাহির হয় নাই। এ-সম্পর্কে চৌধুরী শামসুর রহমান লিখিয়াছেন—

১৯৩০-৩১ সাল। … এই সময়ে মোহাম্মদ কাসেম সাহেব ঢাকা থেকে গিয়ে আমাদের আস্তানায় উপস্থিত হন। কবি নজরুলের একখানা কবিতার বইয়ের পাণ্ডুলিপি সঙ্গে করে নিয়েই তিনি আমাদের ওখানে গিয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম এর আগে যখন ঢাকায় ছিলেন, তখনই কিছু টাকার বিনিময়ে এই পাণ্ডুলিপিখানা কাসেম সাহেবকে হস্তান্তর করেন। অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় মোহাম্মদী কাসেম কোনো প্রকাশকের কাছে পাণ্ডুলিপিখানা বিক্রি করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে আমি তাঁকে সঙ্গে করে বৈঠকখানা রোডে এমদাদ আলী সাহেবের প্রেসে নিয়ে যাই। এমদাদ আলী সাহেব এককালে মাসিক ‘সহচর’ পত্রিকা বের করতেন এবং তারপর কয়েকখানা বই-পুস্তকও প্রকাশ করেন। তিনি নজরুলের বইখানা কিনতে রাজি হন এবং নগদ নয় শত টাকার বিনিময়ে আমরা তাঁকে পাণ্ডুলিপি প্রদান করি।

—[পঁচিশ বছর, ১৩৪ পৃষ্ঠা।]

কবি তাঁর এই বইয়ের ‘নির্ঝর’ নাম দিয়েছিলেন এবং এতে মোট ১৪টি কবিতা ছিল। … পরে কয়েকবার উকিল (এমদাদ আলী) সাহেবের প্রেসে গিয়ে বইখানির কয়েকটি মুদ্রিত ফর্মা দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। কোন রহস্যজনক কারণে যে উকিল (এমদাদ আলী) সাহেব পাণ্ডুলিপির জন্যে নগদ নয়-শো টাকা প্রদান করে এই বই ছাপার পরও তা বাজারে বের করলেন না, তা জানার কোনো উপায় ছিল না।

—[নজরুল একাডেমী পত্রিকা, গ্রীষ্ম সংখ্যা, ১৩৭৭]
ঢাকার অধুনালুপ্ত ‘অভিযান’ পত্রিকার সম্পাদক মরহুম মোহাম্মদী কাসেম সাহেবের নিকট হইতে কলিকাতার মোহসিন অ্যাণ্ড কোম্পানি যে পাণ্ডুলিপিখানি ক্রয় করেন তাহাতে মোট ১৪টি কবিতা ছিল বলিয়া প্রকাশ; কিন্তু ‘নির্ঝর’ কাব্যে মুদ্রিত হয় নজরুলের ২৫টি কবিতা; সম্ভবত এই কারণেই কাব্যখানি বাজারে বাহির হইতে পারে নাই। ২৫টি কবিতা হইতেছে।
‘অভিমানী’ ১৩২৮ ফাল্গুনের ‘সহচর’-এ, ‘বাঁশির ব্যথা’ ১৩২৭ কার্তিকের ‘বঙ্গনূর’-এ, ‘আশায়’ ১৩২৬ পৌষের ‘প্রবাসী’তে এবং সুন্দরী ১৩২৭ ভাদ্রের ‘বঙ্গনূর’-এ বাহির হয়েছিল।
‘মুক্তি’ নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কবিতা; ১৩২৬ শ্রাবণের ‘বঙ্গীয়-মুসলমান-সাহিত্য-পত্রিকা’য় প্রকাশিত হইয়াছিল।
‘চিঠি’ ১৩২৭ বৈশাখের ‘বঙ্গনূর’-এ বাহির হয়; শিরোনামের নিচে বন্ধনীর মধ্যে লেখা আছে: ‘গাথা’।
‘আবরী ছন্দের কবিতা’ ১৩২৯ চৈত্রের ‘প্রবাসী’তে প্রকাশিত হইয়াছিল এবং ‘প্রবাসী’ হইতে ১৩২৯ মাঘের ‘বঙ্গীয়-মুসলমান-সাহিত্য-পত্রিকা’য় সঙ্কলিত হইয়াছিল।
প্রিয়ার দেওয়া শরাব’, ১৩২৭ বৈশাখের ‘বঙ্গীয়-মুসলমান-সাহিত্য পত্রিকা’য় এবং ‘গরীবের ব্যথা’ ১৩২৭ আশ্বিনের ‘বঙ্গনূর’-এ বাহির হইয়াছিল।
‘দীওয়ান-ই-হাফিজ’: ১ ও ২ সংখ্যক ‘গজল’ ১৩২৭ অগ্রহায়ণের, ৩ ও ৪ সংখ্যক ‘গজল’ ১৩২৭ পৌষের এবং ৫ ও৬ সংখ্যক ‘গজল’ ১৩২৭ মাঘের ‘মোসলেম ভারতে’, ৭ সংখ্যক ‘গজল’ ১৩৩০ শ্রাবণের ‘প্রবাসী’তে এবং ৮ সংখ্যক ‘গজল’ ১৩৩০ বৈশাখের ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল।
পুনশ্চ
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত নজরুল রচনাবলী জন্মশতবর্ষ সংস্করণের পঞ্চম খণ্ডে সঙ্কলিত নির্ঝর কাব্যগ্রন্থে প্রদত্ত তালিকার পঁচিশটি কবিতাই রয়েছে। এই পঁচিশটি কবিতার মধ্যে মানিনী বধূর প্রতি কবিতাটি ‘মানিনী‘ শিরোনামে’পুবের হাওয়া‘ কাব্যগ্রন্থে সঙ্কলিত হয়েছে।
গান শিরোনামের গানটি আজ নূতন করে পড়ল মনে মনের মতনে শিরোনামে ‘নজরুল-গীতিকায়’ সঙ্কলিত হয়েছে। তবে নির্ঝরে ৬ সংখ্যক লাইন (এই শাঙন সাঁঝের ভেজা হাওয়ায়, বারির পতনে।) বাদ পড়েছে এবং ১১ সংখ্যক লাইনটি নজরুল গীতিকায় ‘আজ পরান আমার বেড়ায় মেগে একটু যতনে’ এবং নির্ঝরে ‘আজ পরান আমার বেড়ায় মেগে একটু যতনে’ লেখা হয়েছে।
হবে জয়, পূজা-অভিনয়, চাষার গান এবং নমস্কার —এ চারটি কবিতা প্রলয়-শিখা কাব্যগ্রন্থেও সঙ্কলিত হয়েছে।
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
Scroll Up