এযাবৎ 49 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
দীওয়ান-ই-হাফিজ
গজল ৬
মোর
পাত্র মদ্য—
রোশনায়ে কর
রৌশন এয়্ সাকি!
গাও
বান্দাবান্দা : সভার গায়ক।, ‘মোদের
পুরবে সব আশ
দুন্‌য়া নয় ফাঁকি!”
মদ-
পাত্রে মোর আজ
বিম্বিত ছবি
প্রিয়ার চাঁদ মুখের,
শোন
বঞ্চিত যত
হরদমই মদ—
টানার স্বাদ সুখের!
ঝাউ
ছিপছিপে তন—
নাঙ্গীদে ‘নাজ
নখরা’নাজ নখরা : ছলাকলা, হাবভাব। সব ফুরোয়,
ক্ষীণ
দেবদারু-তনু
মরালী পিয়ার
যেই হয় অভ্যুদয়।
সে যে
মৃত্যুঞ্জয়ী
শাশ্বত চির—
জাগ্রত প্রেম যার;
অবি-
নশ্বর মম
নাম তাই দোলে
কাল-বুকে হেম-হার।
মোর
“দিল্‌রুবা”দিল্‌রুবা : মন-হরণকারী। পিয়ার
আঁখিয়ার বড়ো
মিঠি দিঠি আধ-ঘোর,
তাই
চাউনির ওরই
হাতে সঁপা মোর
বাসনার বাগ-ডোরবাগ-ডোর : লাগাম।
রোজ
কিয়ামতেকিয়ামত : শেষ বিচারের দিন। ভাই,
জিতবে না,—
আহা, দুঃখে গাল খুঁটি!
মোর
হারাম মদকে
ভণ্ড শেখের
হালালহালাল : শাস্ত্রসিদ্ধ। দাল-রুটি।
কভু
বন্ধুদের সে
ফুলবাগে যদি
যাও দখিন হাওয়া;
মোর
কান্তারও কাছে
এই কথাটুকু
জরুর চাই যাওয়া;
বলো
প্রিয়তম! স্মৃতি
জোর করে ছি ছি
ভোলা কি কখনও যায়?
ওগো
আপনি সেদিনও
আসিবে, আর না
দেখিবে স্বপ্ন তায়!
ওই
পাতলা ছুঁড়িরই
প্রেম দাগ বুকে
‘লালা’লালা : এক রকম ফুল, এই ফুলের বুকে একটি ক্ষত বা দাগ থাকে। –ফুল-সম চিন্;
মম
জালে ধরা দেবে
মিলন-বিহগ –
বাকি আর কতদিন?
ওই
সব্‌জাসব্‌জা : সবুজ। দরিয়া
আশমানের, আর
চাঁদের নৌকা সেই,
সব
ডুব গিয়া ভায়া
‘কওয়াম হাজি’কওয়াম হাজি : কবি হাফিজের এক উজির-বন্ধু।
মাল এ মদ গ্লাসেই!
ফেল
অশ্রুবিন্দু –
শস্য-কণিকা
হাফিজ কাঁদ রে কাঁদ,
ওরে
মিলন-পক্ষী
হয়তো লক্ষ্য
করবে তা হলে ফাঁদ!

ছন্দসূত্র :–
সা   কি ব-নুরে  বা-দা বর্-অফ্  রোজে জা-ম্ এমা
মোর পাত্র মদ্য–রোশনায়ে কর রৌশন এয় সা – কি !
নির্ঝর সূচী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
ভালো লাগা জানান
Scroll Up