এযাবৎ 50 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
ওমরকে তাঁর কাব্য পড়ে যাঁরা Epicurean বলে অভিহিত করেন, তাঁরা পূর্ণ সত্য বলেন না। ওমরের কাব্য সাধারণত ছয় ভাগে বিভক্ত:
  1. ‘শিকায়া-ই-রোজগার’, অর্থাৎ গ্রহের ফের বা অদৃষ্টের প্রতি অনুযোগ।
  2. ‘হজও’, অর্থাৎ ভণ্ডদের, বকধার্মিকদের প্রতি শ্লেষ-বিদ্রূপ ও তথাকথিত আলেম বা জ্ঞানীদের দাম্ভিকতা ও মূর্খদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ।
  3. ‘ফিরাফিয়া’ ও ‘ওসালিয়া’, বা প্রিয়ার বিরহে ও মিলনে লিখিত কবিতা।
  4. ‘বাহরিয়া’—বসন্ত, ফুল, বাগান, ফল, পাখি ইত্যাদির প্রশংসায় লিখিত কবিতা।
  5. ‘কুফরিয়া’—ধর্মশাস্ত্র-বিরুদ্ধ কবিতাসমূহ। এইগুলি ওমরের শ্রেষ্ঠ কবিতারূপে কবি-সমাজে আদৃত। স্বর্গ-নরকের অলীক কল্পনা, বাহ্যিক উপাসনার অসারতা, পাপ-পুণ্যের মিথ্যা ভয় ও লাভ ইত্যাদি নিয়ে লিখিত কবিতাগুলি এর অন্তর্গত।
  6. ‘মুনাজাত’ বা খোদার কাছে প্রার্থনা। এ প্রার্থনা অবশ্য সাধারণের মতো প্রার্থনা নয়, সূফীর প্রার্থনার মতো এ হাস্য-জড়িত।
ওমরকে Epicurean কতকটা বলা যায় শুধু তাঁর ‘কুফরিয়া’ শ্রেণীর কবিতার জন্য। এ ছাড়া ওমর যা, তা ওমর ছাড়া আর কারুর সঙ্গেই তুলনা হয় না।
ওমরের কাব্যে শারাব-সাকির ছড়াছড়ি থাকলেও তিনি জীবনে ছিলেন আশ্চর্য রকমের সংযমী। তাঁর কবিতায় যেমন ভাবের প্রগাঢ়তা, অথচ সংযমের আঁটসাঁট বাঁধুনি, তাঁর জীবনও ছিল তেমনি।
ফিটজেরাল্ডের মুখে ঝাল খেয়ে অনেকেই বলে থাকেন, ওমর যে-শারাবের কথা বলেছেন তা দ্রাক্ষারস, তাঁর সাকিও রক্ত-মাংসের। ফিটজেরাল্ড তাঁর মতের পরিপোষকতার জন্য কোনো প্রমাণ দেননি। তাঁর মতে মত দিয়েছেন যাঁরা, তাঁরাও কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। ওমর তাঁর ‘রুবাই’তে অবশ্য শারাব বলতে আঙুরের ক্বাথ-এর উল্লেখ করেছেন; কিন্তু ওটা পারস্যের সকল কবিরই অন্তত ‘বলার জন্য বলা’র বিলাস। শারাব, সাকি, গোলাপ, বুলবুলকে বাদ দিয়ে যে কবিতা লেখা যায়, তা ইরানের কবিরা যেন ভাবতেই পারেন না।
ওমর হয়তো শারাব পান করতেন কিংবা করতেনও না। এর কোনোটাই প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত সত্য বলে মেনে নেওয়া যায় না। ওমরের রুবাইয়াতের মতবাদের জন্য তাঁর দেশের তৎকালীন ধর্মগোঁড়াদের অত্যন্ত আক্রোশ ছিল, তবু তাঁকে দেশের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী বলে সম্রাট থেকে জনসাধারণ পর্যন্ত ভক্তির চোখে দেখত। যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষীরা ওমরের ছাত্র ছিলেন; কাজেই, মনে হয়, তিনি মদ্যপ লম্পটের জীবন (ইচ্ছা থাকলেও) যাপন করতে পারেননি। তাছাড়া, ওভাবে জীবন যাপন করলে গোঁড়ার দল তা লিখে রাখতেও ভুলে যেতেন না। অথচ, তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রুও তা লিখে যাননি। সাধারণের শ্রদ্ধাভাজন হওয়ার শাস্তি তাঁকে পেতে হয়েছিল হয়তো এই ভাবেই যে, তিনি নিজের স্বাধীন ইচ্ছামতো জীবন যাপন করতে পারেননি। শারাব-সাকির স্বপ্নই দেখেছেন— তাদের ভোগ করে যেতে পারেননি। ভোগ-তৃপ্ত মনে এমন আগুন জ্বলে না। এ যে মরুভূমি-নিম্নে হয়তো বহু নিম্নে কান্নার ফগুধারা, ঊর্ধ্বে রৌদ্রদগ্ধ বালুকার জ্বালা, তীব্র দাহন। ওমর যেন মরুভূমির বুকের খর্জুর-তরু, মরুভূমির খেজুর-গাছকে দেখলে যেমন অবাক হতে হয়—ওমরকে দেখেও তেমনি বিস্মিত হই। সারা দেহে কণ্টকের জ্বালা, উর্ধ্বে রৌদ্রতপ্ত আকাশ, নিম্নে আতপ-তপ্ত বালুকা—তারি মাঝে এর রস সে পায় কেমন করে?
খেজুর-গাছের মতোই ওমর এ-রস দান করেছেন নিজের হৃৎপিণ্ডকে বিদারণ করে। এ রস মিষ্ট হলেও এ তো অশ্রুজলের লবণ মেশা। খেজুর গাছের রস যেমন তার মাথা চেঁছে বের করতে হয়, ওমর খৈয়ামের রুবাইয়াতও তেমনি বেরিয়েছে তাঁর মস্তিষ্ক থেকে। প্রায় হাজার বছর আগে এত বড় জ্ঞানমার্গী কবি কি করে জন্মাল, বিশেষ করে ইরানের মতো অনুভূতিপ্রবণ দেশে—তা ভেবে অবাক হতে হয়। ওমরকে দেখে মনে হয়, কোনো বিংশ শতাব্দীর কবিও বুঝি এত মডার্ন হতে পারেন না। ওমরকে লাঞ্ছনা ভোগ করতে হয়েছিল, তা বুঝি তাঁর ঐ হাজার বছর আগে জন্মাবার জন্যই। আজকাল পৃথিবীর কোনো মডার্ন কবিই তাঁর মতো মডার্ন নন, তরুণও নন। বিংশ শতাব্দীর জ্ঞানপ্রবুদ্ধ লোকও তাঁর সব মত বুঝি হজম করতে পারেন না। ওমর আজ জগতে অপরিমাণ শ্রদ্ধা পাচ্ছেন—তবু মনে হয়, আরো চার-পাঁচ শতাব্দী পরে তিনি আরো বেশি শ্রদ্ধা পাবেন—যা পেয়েছেন তার বহু সহস্র গুণ।
ওমর তাঁর অসময়ে আসা সম্বন্ধে যে অত বেশি সচেতন ছিলেন, তা তাঁর লেখার দুঃসাহসিকতা, পৌরুষ ও গভীর আত্মবিশ্বাস দেখেই বুঝা যায়। তিনি যেন তাঁর কাছে আরব মানুষকে অতি ক্ষুদ্র pigmy করে দেখতেন।
তিনি নিজেকে এইসব ক্ষুদ্র-জ্ঞান মানুষের, এমনকি সে-যুগের তথাকথিত শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীগণেরও বহু বহু ঊর্ধ্বে মনে করতেন। তিনি যেন জানতেন—তার জীবনে তাঁর লেখা বুঝবার মতো লোক কেউ জন্মায়নি, তিনি যা লিখেছেন তা অনাগত দিনের নূতন পৃথিবীর জন্য।
ওমর সুফী ছিলেন কিনা জানিনে। কিন্তু ঐ পথের পথিক যাঁরা, তাঁরা ওমরকে সুফী এবং খুব উঁচুদরের তাপস বলে মনে করেন। তাঁরা বলেন, সুফী জনপ্রিয়তার বা লোকের শ্রদ্ধার জুলুম এড়াবার জন্যই ঘোরতর পাপ পরিহার করেন। তাঁরা নিজেদের মদ্যপ লম্পট বলে স্বেচ্ছানির্বাসন বরণ করে নিজেরা গুপ্ত সাধনায় মগ্ন থাকেন। তাছাড়া, ইরানে কবিরা শারাবকে সকলে সত্যিকার মদ বলে ধরে নেন না। তাঁরা শারাব বলতে আনন্দ-ভূমানন্দকে বোঝেন—যে আনন্দ-রূপিণী সুরার নেশায় তাপস-ঋষি সংসারের সব ভুলে গিয়ে আপনাতে আপনি বিভোর হয়ে থাকেন। সাকি বলতে বোঝেন মুর্শিদকে, গুরুকে, যিনি সেই আনন্দ-শারাব পরিবেশন করেন। যাক, ও-সব তত্ত্বকথা দিয়ে আমাদের প্রয়োজন নেই, কেননা আমরা তত্ত্বজিজ্ঞাসু নই, আমরা রসপিপাসু। ওমর কবিতা লিখেছেন, এবং তা চমৎকার কবিতা হয়েছে, আমাদের পক্ষে এই যথেষ্ট। আমরা তা পড়ে অত্যন্ত আনন্দ পাই, আমাদের এতেই আনন্দ।
আমাদের কাছে, বিংশ শতাব্দীর জ্ঞান-বিজ্ঞান-পুষ্ট কারণ জিজ্ঞাসু মনের কাছে, ওমরের কবিতা যেন আমাদেরই প্রশ্ন, আমাদেরই প্রাণের কথা। আমরা জিজ্ঞাসা করি-করি করেও যেন সাহস ও প্রকাশ-ক্ষমতার দৈন্যবশত তা জিজ্ঞাসা করতে পারছিলাম না।
বিগত মহাযুদ্ধের মতোই আমাদের আজকের জীবন-মহাযুদ্ধ-ক্লান্ত অবিশ্বাসী-মন জিজ্ঞাসা করে ওঠে—কেন এই জীবন, মৃত্যুই বা কেন? স্বর্গ, নরক, ভগবান বলে সত্যই কি কিছু আছে? আমরা মরে কোথায় যাই? কেন এই হানাহানি? এই অভাব, দুঃখ, শোক?—এমনিতর অগুনতি প্রশ্ন, যার উত্তর কেউ দিতে পারেনি। যে উত্তর দিয়েছে, সে তার উত্তরের প্রমাণে কিছুই দেখাতে পারেনি; শুধু বলেছে; বিশ্বাস করো! তবু আমাদের মন বিশ্বাস করতে চায় না, সে তর্ক করতে শিখেছে। এই চিরন্তন প্রশ্ন ওমরের জ্ঞান প্রশান্ত মনে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ঝড়ের মতোই দোল দিয়েছিল। সেই তরঙ্গ সঙ্ঘাতের সঙ্গীত, বিলাপ, গর্জন শুনতে পাই তাঁর রুবাইয়াতে। ওমরকে বিংশ শতাব্দীর মানুষের ভালো লাগার কারণ এই।
ওমর বলতে চান, এই প্রশ্নের হাত এড়াবার জন্য কত অবতার পয়গম্বর এলেন, তবু যে প্রশ্ন সেই প্রশ্নই রয়ে গেল! মানুষের দুঃখ এক তিলও কমল না। ওমর তাই বললেন, এ-সব মিথ্যা, পৃথিবী মিথ্যা, স্বর্গ মিথ্যা, পাপ-পুণ্য মিথ্যা, তুমি মিথ্যা, আমি মিথ্যা, সত্য মিথ্যা, মিথ্যা মিথ্যা। একমাত্র সত্য—যে মুহূর্ত তোমার হাতের মুঠোয় এলো তাকে চুটিয়ে ভোগ করে নাও। স্রষ্টা যদি কেউ থাকেনও, তিনি আমাদের দুঃখে-সুখে নির্বিকার—আমরা তাঁর হাতের খেলা-পুতুল। সৃষ্টি করছেন ভাঙছেন তাঁর খেয়াল-মতো, তুমি কাঁদলেও যা হবে, না কাঁদলেও তাই হবে, যা হবার তা হবেই। যে মরে গেল, সে একেবারেই মরে গেল; সে আর আসবেও না বাঁচবেও না। তাঁর পাপ-পূণ্য স্রষ্টারই আদেশ—তাঁর খেলা জমাবার জন্য। মোট কথা, স্রষ্টা একটা বিরাট খেয়ালি শিশু বা ঐন্দ্রজালিক।
আমি ওমরের রুবাইয়াৎ বলে প্রচলিত প্রায় এক হাজার রুবাই থেকেই কিঞ্চিদধিক দুশো রুবাই বেছে নিয়েছি; এবং তা ফারসি ভাষার রুবাইয়াৎ থেকে। কারণ, আমার বিবেচনায় এইগুলি ছাড়া বাকি রুবাই ওমরের প্রকাশভঙ্গি বা স্টাইলের সঙ্গে একেবারে মিশ খায় না। রবীন্দ্রনাথের কবিতার পাশে আমার মতো কবির কবিতার মতো তা একেবারে বাজে। বাকিগুলিতে ওমর খৈয়ামের ভাব নেই, ভাষা নেই, গতি ঋজুতা—এ কথায় স্টাইলের কোনো কিছু নেই। খুব সম্ভব ওগুলি অন্যকোনো পদ্য-লিখিয়ের লেখা। আর, তা যদি ওমরেরই হয়, তবে তা অনুবাদ করে পণ্ডশ্রম করার দরকার নেই। বাগানের গোলাপ তুলব; তাই বলে বাগানের আগাছাও তুলে আনতে হবে এর কোনো মানে নেই।
আমি আমার ওস্তাদি দেখাবার জন্য ওমর খৈয়ামের ভাব ভাষা বা স্টাইলকে বিকৃত করিনি—অবশ্য আমার সাধ্যমতো। এর জন্য আমার অজস্র পরিশ্রম করতে হয়েছে, বেগ পেতে হয়েছে। কাগজ-পেন্সিলের, যাকে বলে আদ্যশ্রাদ্ধ, তা-ই করে ছেড়েছি। ওমরের রুবাইয়াতের চেয়ে বড় জিনিস ওর প্রকাশের ভঙ্গি বা ঢং। ওমর আগাগোড়া মাতালের পোজ নিয়ে তাঁর রুবাইয়াৎ লিখে গেছেন—মাতালের মতোই ভাষা, ভাব, ভঙ্গি, শ্লেষ, রসিকতা, হাসি, কান্না—সব। কত বৎসর ধরে কত বিভিন্ন সময়ে তিনি এই কবিতাগুলি লিখেছেন, অথচ এর স্টাইল সম্বন্ধে কখনো এতটুকু চেতনা হারাননি। মনে হয় একদিনে বসে লেখা। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি—ওমরের সেই ঢঙটির মর্যাদা রাখতে, তাঁর প্রকাশভঙ্গিকে যতটা পারি কায়দায় আনতে। কতদূর সফল হয়েছি, অ ফারসি-নবিশরাই বলবেন।
ওমর খৈয়ামের ভাবে অনুপ্রাণিত ফিটজেরাল্ডের কবিতার যাঁরা অনুবাদ করেছেন, তাঁরা সকলেই আমার চেয়ে শক্তিশালী ও বড় কবি। কাজেই তাঁদের মতো মিষ্টি শোনাবে হয়তো আমার এ অনুবাদ। যদি না শোনায়, সে আমার শক্তির অভাব-সাধনার অভাব, কেননা কাব্যলোকের গুলিস্তান থেকে সঙ্গীতলোকের রাগিণী-দ্বীপে আমার দ্বীপান্তর হয়ে গেছে। সঙ্গীত-লক্ষ্মী কাব্য-লক্ষ্মী দুই বোন বলেই বুঝি ওদের মধ্যেই এত রেষারেষি। একজনকে পেয়ে গেলে আরেকজন বাপের বাড়ি চলে যান। দুইজনকে খুশি করে রাখার মতো শক্তি রবীন্দ্রনাথের মতো লোকেরই আছে। আমার সে সম্বলও নেই, শক্তিও নেই। কাজেই, আমার অক্ষমতার দরুন কেউ যেন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ওমরের উপর চটে না যান।
ওমরের রুবাইয়াৎ বা চতুষ্পদী কবিতা চতুষ্পদী হলেও তার চারটি পদই ছুটেছে। আরবি ঘোড়ার মতো দৃপ্ত তেজে সমতালে-ভণ্ডামি, মিথ্যা বিশ্বাস, সংস্কার, বিধি-নিষেধের পথে ধূলি উড়িয়ে তাদের বুক চূর্ণ করে। সেই উচ্চৈঃশ্রবা আমার হাতে পড়ে হয়তো বা বজদ্দি মোড়লের ঘোড়া-ই হয়ে উঠেছে—আমাদের গ্রামের কাছে এক জমিদার ছিলেন, তাঁর নাম বজদ্দি মোড়ল। তাঁর এক বাগ-না-মানা ঘোড়া ছিল, সে জাতে অশ্ব হলেও গুণে অশ্বতর ছিল। তিনি যদি মনে করতেন পশ্চিম দিকে যাবেন, ঘোড়া যেত পূর্ব দিকে। ঘোড়াকে কিছুতেই বাগ মানাতে না পেরে শেষে বলতেন—’আচ্ছা চল, এদিকেও আমার জমিদারি আছে।‘
ওমরের বোররাক বা উচ্চৈঃশ্রবাকে আমার মতো আনাড়ি সওয়ার যে বাগ মানাতে পারবে, সে ধৃষ্টতা আমার নেই। তবে উক্ত বজদ্দি মোড়লের মতো সে ঘোড়াকে তার ইচ্ছামতো পথেও যেতে দিইনি। লাগাম কষে প্রাণপণ বাধা দিয়েছি, যাতে সে অন্যপথে না যায়। অবশ্য মাঝে মাঝে পড়ব-পড়ব অবস্থাও যে হয়েছে, তা স্বীকার করতে আমার লজ্জা নেই। তবে এটুকু জোর করে বলতে পারি, তাঁর ঘোড়া আমার হাতে পড়ে চতুষ্পদী ভেড়াও হয়ে যায়নি প্রাণহীন চার-পায়াও হয়নি। আমি ন্যাজ মলে মলে ওর অন্তত তেজটুকু নষ্ট করিনি। ওঁর মতো ‘ছার্তক (সার্থক?) না হতে পারলেও অন্তত ‘কদমে’ চালাবার কিছু চেষ্টা করেছি।
যাক, অনেক বকা গেল; এর জন্য যাঁরা আমাকে দোষ দেবেন—তাঁরা যেন আমায় দোষ দেবার আগে খৈয়ামের শারাবকে দোষ দেন। এর নামেই এত নেশা, পান করলে না জানি কি হয়, হয়তো বা ওমর খৈয়ামই হয়! অবশ্য আমরা খেলে এইরকম বখামি করি, ওমর খেলে রুবাইয়াৎ লেখেন।
এইবার কৃতজ্ঞতা নিবেদনের পালা। খাওয়ানোর শেষে, বিনয় প্রকাশের মতো। না করলেও হয়, তবু দেশের রেওয়াজ মেনে চলতেই হবে।
আমার বহুকালের পুরানো বন্ধু মৌলবি মঈনউদ্দীন হোসায়ন সাহেব এর সমস্ত কিছু সরবরাহ না করলে হয়তো আমি কোনো দিনই এ শেষ করতে পারতাম না। তাঁর কাছে আমি এজন্য চিরঋণী। শ্রীমান আবদুল মজিদ সাহিত্য-রত্নও যথেষ্ট সাহায্য করেছেন আমার প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ করে দেওয়ার জন্য। এঁদের দুজনারই নাম আছে। সাহিত্যে, কাজেই কেবল আমার বই-এ নাম থাকার জন্য এঁরা পরিচিত হবেন না। আমার সাহায্য করার মতি এঁদের অটল থাক, এই-ই প্রার্থনা।
রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম সূচী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
ভালো লাগা জানান
Scroll Up