এযাবৎ 50 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
১৩৩৭ সালের আষাঢ় মাসে রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। প্রকাশক: শরচ্চন্দ্র চক্রবর্তী এণ্ড সন্স, ২১, নন্দকুমার চৌধুরী লেন, কলিকাতা। মূল্য ২ টাকা। ১৩৩৭ জ্যৈষ্ঠের জয়তীতে ৬, ৭, ৮, ১২, ১৫, ৩২, ৪১, ৪৯, ৫৩, ও ৫৪ সংখ্যক ১০টি রুবাই ছাপা হইয়াছিল। ৫৪ সংখ্যক রুবাইটি জয়তীতে ছাপা হয় এরূপ—
তোমার বিরহে গো আমি
কাঁদি মোমের বাতির চেয়ে।
আরক্তধার অশ্রু ঝরে
নদের কুঁজোর মতো বেয়ে।
পান-পেয়ালার মতো আমি,
হৃদয় যখন কৃপণ হেরি
দূর বাঁশরীর বিলাপ শুনে,
রক্ত ধারায় উঠি চেয়ে।।
৩২, ৪১ ও ৫৩ সংখ্যক ৩টি রুবাইও গ্রন্থে সামান্য পরিবর্তিত হইয়াছে।
গ্রন্থের পরিশিষ্টে নজরুল ইসলাম লিখিয়াছেন: ‘হাফিজের সমস্ত কাব্য ‘শাখ-ই-নবাত’ নামক কোনো ইরানি সুন্দরীর স্তবগানে মুখরিত।‘ ১৩৩৭ আষাঢ়ের ‘সওগাতে’ নজরুল ইসলাম ‘শাখ-ই-নবাত’ আখ্যায় একটি সুদীর্ঘ কবিতা লেখেন; আখ্যার নীচে বন্ধনীর মধ্যে বলেন:
‘শাখ-ই-নবাত’ বুলবুল-ই-শিরাজ কবি হাফিজের মানসী প্রিয়া ছিলেন। ‘শাখ-ই-নবাত’ অর্থ ‘আঁখের শাখা’।
কবিতাটির প্রথম শ্লোক—
শাখ-ই-নবাত! শাখ-ই-নবাত! মিষ্টি রসাল ‘ইক্ষু-শাখা’!
বুলবুলির গান শেখাল তোমার আঁখি সুর্মা-মাখা।
গ্রন্থের মুখবন্ধে নজরুল ইসলাম বলিয়াছেন: ‘বাঙলার শাসনকর্তা গিয়াসুদ্দীনের আমন্ত্রণকে ইরানের কবি-সম্রাট হাফিজ উপেক্ষা করেছিলেন।‘ পরিশিষ্টে লিখিয়াছেন:
‘কথিত আছে, বাঙলার কোন শাসনকর্তা হাফিজকে তাঁহার সভায় আমন্ত্রণ করিয়া পাঠান।‘
বাঙলার স্বাধীন সুলতান গিয়াসুদ্দীন আজম শাহ (রাজত্বকাল: ১৩৮৯—১৪১০) যে সালে আমন্ত্রণ-লিপি পাঠান, বোধ হয় তাহা হাফিজের জীবনের অন্তিম-সাল। হাফিজ তাঁহার একটি গজলে এই আমন্ত্রণের উল্লেখ করিয়াছেন এভাবে—
হাফিজ যে শওক মজলিশে সুলতানে গিয়াস-দীন
খামুশ মশও কেঃ কারে তু আয নালঃ মিয়াওয়াদ।।
হাফিজ, সুলতান গিয়াস-উদ-দীনের দরবারে যাওয়ার আগ্রহ
স্তব্ধ রেখো না; কেননা তোমার কাজ হচ্ছে আহাজারি থেকে যাওয়া।।
রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ সূচী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
ভালো লাগা জানান
Scroll Up