এযাবৎ 50 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
।। ৯৩ ।।
কীর্তন
আমি
তুরগ ভাবিয়া মোরগে চড়িনু
(সে) লইল মিয়াঁর ঘরে।
আমার
কালি-মা ছাড়ায়ে কলেমা পড়ায়ে
বুঝি মুসলিম করে!
আমায়
বুঝি মুসলিম করে গো!—
মুর্গীর লোভে দর্গায় এসে
বুঝি টিকি মোর হরে গো!
আমার
শিখা করি দূর রেখে দেবে নূর
জবাই করিবে পরে গো॥
আমি
বাসব ভাবিয়া রাসভে পূজিনু
স্বর্গে যাইতে সোজা,
সে যে
লয়ে এঁদো ঘাটে, ফেলে দিল পাটে
ভাবিয়া ধোবির বোঝা!
হলো
হিতে বিপরীত সবই গো!
আমি
ভবানী ভাবিয়া করিতে প্রণাম
হেরি বাগদিনি ভবি গো
আমি
শীতল হইতে চাহিনু, আনিল
শীতলা-বাহনে ধোবি গো॥
বাবা
শিবের বাহন ভাবিয়া বৃষভ—
লাঙুল ঠেকানু ভালে,
হায়
নিল না সে পূজা, শিং দিয়ে সোজা
গুঁতায়ে ফেলিল খালে!
আমার
কপাল বেজায় পোড়া গো!
আমি
শালগ্রাম ভেবে রাখিনু চক্ষে
হেরি ঝাল-মাখা নোড়া গো
আমার
ভাগ্য বেজায় ফুটো গো,
বাঁকা
অঙ্গ হেরিয়া জড়ায়ে ধরিতে
হেরি ত্রিভঙ্গ খুঁটো গো॥
আমার
মহিষী-গৃহিণী খুশি হবে ভেবে
মহিষ কিনিয়া আনি!
বাবা
মরি এবে ত্রাসে, শিং নেড়ে আসে
মহিষ, মহিষী রাণী!
আমি
কেমনে জীবন ধরি গো!
আমি
‘হরি বোল’বলে ডাকিতে হরি-রে!
হয়ে যায় ‘বলো হরি’গো॥
নজরুলের ‘চন্দ্রবিন্দু’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘আমি তুরগ ভাবিয়া মোরগে চড়িনু’ গানটির সঙ্গে ‘নজরুল-গীতিকার’-র অন্তর্গত এবং গ্রামোফোন রেকর্ডে ধারণকৃত এই গানটির পার্থক্য রয়েছে।
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
Scroll Up