এযাবৎ 50 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
‘শহিদান’দের ঈদ এল বকরীদ!
অন্তরে চির-নওজোয়ান যে তারই তরে এই ঈদ।
আল্লার রাহে দিতে পারে যারা আপনারে কোরবান,
নির্লোভ নিরহংকার যারা, যাহারা নিরভিমান,
দানব-দৈত্যে কতল করিতে আসে তলোয়ার লয়ে,
ফিরদৌসফিরদৌস : স্বর্গবিশেষ। হতে এসেছে যাহারা ধরায় মানুষ হয়ে,
অসুন্দর ও অত্যাচারীরে বিনাশ করিতে যারা
জন্ম লয়েছে চিরনির্ভীক যৌবন-মাতোয়ারা, –
তাহাদেরই শুধু আছে অধিকার ঈদ্গাহে ময়দানে,
তাহারাই শুধু বকরীদ করে জান মাল কোরবানে।
বিভুতি, ‘মাজেজা’মাজেজা : অলৌকিক ঘটনা।, যাহা পায় সব প্রভু আল্লার রাহে
কোরবানি দিয়ে নির্যাতিতেরে মুক্ত করিতে চাহে।
এরাই মানব-জাতির খাদেমখাদেম : সেবক।, ইহারাই খাক্‌সারখাক্‌সার : নগণ্য ব্যক্তি।,
এরাই লোভীর সাম্রাজ্যেরে করে দেয় মিসমারমিসমার : বিধ্বস্ত।!
ইহারাই ‘ফিরোদৌস-আল্লা’র প্রেম-ঘন অধিবাসী
তসবিতসবি : মুসলমানদের জপমালা। ও তলোয়ার লয়ে আসি অসুরে যায় বিনাশি।
এরাই শহিদ, প্রাণ লয়ে এরা খেলে ছিনিমিনি খেলা,
ভীরুর বাজারে এরা আনে নিতি নব নওরোজনওরোজ : নতুন দিন বা নববর্ষ।-মেলা!
প্রাণ-রঙ্গিলা করে ইহারাই ভীতি-ম্লান আত্মায়,
আপনার প্রাণ-প্রদীপ নিভায়ে সবার প্রাণ জাগায়।
কল্পবৃক্ষ পবিত্র ‘জৈতুন’জৈতুন : জলপাই। গাছ যথা থাকে,
এরা সেই আশমান থেকে এসে, সদা তারই ধ্যান রাখে!
এরা আল্লার সৈনিক, এরা ‘জবীহুল্লা’জবীহুল্লা : আল্লাহ্‌র নামে উৎসর্গীকৃত ব্যক্তি। ইসমাইল-এর অপর নাম।-র সাথি,
এদেরই আত্মত্যাগ যুগে যুগে জ্বালায় আশার বাতি।
ইহারা, সর্বত্যাগী বৈরাগী প্রভু আল্লার রাহে,
ভয় করে নাকো কোনো দুনিয়ার কোনো সে শাহানশাহে।
এরাই কাবার হজের যাত্রী, এদেরই দস্তদস্ত : হস্ত। চুমি!
কওসরকওসর : অমৃত। আনে নিঙাড়িয়া রণক্ষেত্রের মরুভূমি!
‘জবীহুল্লা’র দোস্ত ইহারা, এদেরই চরণাঘাতে,
‘আব-জমজম’আব-জমজম : মক্কার অদূরে জমজম কূপের পবিত্র বারি। প্রবাহিত হয় হৃদয়ের মক্কাতে।
ইব্রাহিমের কাহিনি শুনেছ? ইসমাইলের ত্যাগ?
আল্লারে পাবে মনে কর কোরবানি দিয়ে গরু ছাগ?
আল্লার নামে, ধর্মের নামে, মানব জাতির লাগি
পুত্রেরে কোরবানি দিতে পারে, আছে কেউ হেন ত্যাগী?
সেই মুসলিম থাকে যদি কেউ, তসলিমতসলিম : ইসলামি কায়দায় অভিবাদন। করি তারে,
ঈদ্গাহে গিয়া তারই সার্থক হয় ডাকা আল্লারে।
অন্তরে ভোগী, বাইরে যে রোগী, মুসলমান সে নয়,
চোগা চাপকানে ঢাকা পড়িবে না সত্য যে পরিচয়!
লাখো ‘বকরা’র বদলে সে পার হবে না পুলসেরাতপুলসেরাত : নরকের উপরের সাঁকো বা পুল, যা চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম এবং তলোয়ারের চেয়ে ধারালো। ধার্মিক ব্যক্তিরা এই পুল পার হয়ে স্বর্গে প্রবেশ করেন, পাপীরা পিছলে অগ্নিময় নরকে পতিত হয়।
সোনার বলদ ধনসম্পদ দিতে পার খুলে হাত?
কোরান মজিদে আল্লার এই ফরমান দেখো পড়ে,
আল্লার রাহে কোরবানি দাও সোনার বলদ ধরে।
ইব্রাহিমের মতো পুত্রেরে আল্লার রাহে দাও,
নইলে কখনও মুসলিম নও, মিছে শাফায়ৎশাফায়ৎ : সুপারিশ। চাও!
নির্যাতিতের লাগি পুত্রেরে দাও না শহিদ হতে,
চাকরিতে দিয়া মিছে কথা কও– ‘যাও আল্লার পথে’!
বকরীদি চাঁদ করে ফরয়্যাদফরয়্যাদ : বিচার প্রার্থনা।, দাও দাও কোরবানি,
আল্লারে পাওয়া যায় না করিয়া তাঁহার না-ফরমানিনা-ফরমানি : অমান্য।!
পিছন হইতে বুকে ছুরি মেরে, গলায় গলায় মেলো,
কোরো না আত্ম-প্রতারণা আর, খেলকাখেলকা : তালিযুক্ত পোশাক। খুলিয়া ফেলো!
উমরেউমর : হজরতের অন্যতম প্রিয় শিষ্য। সুবিচারের জন্য খ্যাত।, খালেদেখালেদ : খালেদ-বিন-ওয়ালিদ। তৎকালীন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর। ইসলাম বিরোধী শক্তিসমূহের বিশাল যুদ্ধায়োজন তছনছ করে আরব দেশের বাইরে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করেন।, মুসামুসা : সোনালি যুগের সুবিখ্যাত বীর।তারেকেতারেক : সোনালি যুগের সুবিখ্যাত বীর। বকরীদে মনে কর,
শুধু সালওয়ার পরিয়ো না, ধরো হাতে তলোয়ার ধরো!
কোথায় আমার প্রিয় শহিদল মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণ?
এসো ঈদের নামাজ পড়িব, আলাদা আমাদের ময়দান!
শেষ সওগাত সূচী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
ভালো লাগা জানান
Scroll Up