এযাবৎ 48 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
‘শেষ সওগাত’ প্রথম সংস্করণ ১৩৬৫ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ প্রকাশিত হয়। প্রকাশক: শ্রী জিতেন্দ্রলাল মুখোপাধ্যায় বি. এ.; ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোং প্রাইভেট লি.; ৯৩ মহাত্মা গান্ধী রোড, কলিকাতা-৭। মুদ্রাকর: শ্রী ত্রিদিবেশ বসু বি. এ.; কে. পি. বসু প্রিণ্টিং ওয়ার্কস; ১১, মহেন্দ্র গোস্বামী লেন, কলিকাতা-৬। প্রচ্ছদ-সজ্জা: শ্রী অজিত গুপ্ত। ১২০ পৃষ্ঠা, দাম চার টাকা। তাহার ‘ভূমিকায়’ শ্রী প্রেমেন্দ্র মিত্র বলেন:
‘নজরুল ইসলামের পরিণত প্রতিভার দান বহুসংখ্যক অপ্রকাশিত কবিতা ‘শেষ সওগাত’ রূপে এই সঙ্কলনে তাঁর অগণন অনুরাগীদের কাছে উপস্থিত করতে পেরে এ গ্রন্থের প্রকাশকের সঙ্গে আমিও অত্যন্ত আনন্দিত।‘
এই গ্রন্থের ১৫-সংখ্যক কবিতা ছিল ‘করুণ বেহাগ’। উহা ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে কলিকাতা হইতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘ওয়াতন’ পত্রিকার ঈদ-সংখ্যায় মুদ্রিত হইয়াছিল; উহার পাদটীকায় লেখা ছিল: ‘সিয়ারসোল-রাজ উচ্চ-ইংরেজী বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্রীযুক্ত হরিশঙ্কর মিত্র বি. এ. মহাশয়ের বিদায়-উপলক্ষে কবি এই কবিতাটি বাল্যকালে রচনা করেন?’ কবিতাটি নজরুল-রচনাবলী প্রথম খণ্ডের সংযোজন বিভাগে সঙ্কলিত হইয়াছে বলিয়া এখানে পরিত্যক্ত হইল। তাহার পরিবর্তে ২৭ সংখ্যক কবিতা: ‘মহাত্মা মোহসিন’ সংযোজিত হইয়াছে। মহাত্মা হাজী মোহাম্মদ মোহসিন শিরোনামে ইহা দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকার বিশেষ মোহসিন সংখ্যায় ছাপা হইয়াছে।
‘কেন আপনারে হানি হেলা’ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে নভেম্বরের এবং ‘নারী’ ২৭শে নভেম্বরের দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকায় বাহির হইয়াছিল।
‘তুমি কি গিয়াছ ভুলে’ ১৩৩৮ ফাল্গুনে ‘স্বদেশ’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হইয়াছিল। এটি নজরুলের ‘নির্ঝর’ কাব্যের ১২ সংখ্যক কবিতা-রূপে অন্তর্ভুক্ত হয়; তাহাতে চতুর্দশ পংক্তির পরে আছে এই শ্লোকটি—
হেরিনু, আকাশে ওঠেনি কি চাঁদ—শূন্য আকাশ কাঁদে,
বিরাট বুক ভরিয়া তোলে কি ঐটুকু ক্ষীণ চাঁদে?
কিন্তু ‘শেষ সওগাত’ কাব্যে এই শ্লোকটি নাই এবং অন্যান্য অনেক পংক্তি ও পদ পরিবর্তিত হইয়াছে। এখানে ‘নির্ঝর’ কাব্যের পাঠ গৃহীত হইয়াছে।
‘ভয় করিও না, হে মানবাত্মা’ দৈনিক ‘নবযুগ’ হইতে ১৩৫৭ সালের বার্ষিকী ‘প্রতিভা’য় পুনর্মুদ্রিত হইয়াছিল।
‘সুখ-বিলাসিনী পারাবত তুমি’ জাহানারা বেগম চৌধুরী-সম্পাদিত বার্ষিক ‘রূপরেখা’ হইতে ১৩৪৩ বৈশাখের ‘বুলবুল’-এ পুনর্মুদ্রিত হইয়াছিল।
‘হুল ও ফুল’ ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ২৫শে নভেম্বরের এবং ‘জোর জমিয়াছে খেলা’ ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই নভেম্বরের দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল।
‘কবির মুক্তি’ ১৩৪৮ চৈত্রের ‘সওগাত’-এ ছাপা হইয়াছিল।
‘ছন্দিতা’ গীতিগুচ্ছের প্রায় সবগলি গান সংস্কৃত বৃত্ত ছন্দে বিরচিত। তাহাতে ‘দীপকমালা’ ১৬ মাত্রা; তাহার অস্থায়ী—

সংস্কৃত রীতি-অনুসারে ইহার প্রথম পংক্তিতে হয় ৮ + ১১ মাত্রা, কিন্তু দ্বিতীয় পংক্তিতে ঠিক ৮ + ৮ মাত্রা। ইহারা প্রকৃত পাঠ হইবে এরূপ:

এখানে পংক্তিতে ৮ + ৮ মাত্রার দুটি পদ। প্রথম পদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অক্ষর দীর্ঘোচ্চারিত অর্থাৎ দ্বিমাত্রিক। দ্বিতীয় পদের প্রথম ও তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও সপ্তম পংক্তিতে দ্বিতীয় পদের শেষ অক্ষর দীর্ঘোচ্চারিত; ফলে সেগুলিতে ৫ অক্ষরে ৮ মাত্রা পরিমিত হইয়াছে। এই গানটির তৃতীয় পংক্তিতে ‘আনত আঁখি’ পদের প্রান্তস্থিত অক্ষর ‘খি’ বিকল্পে দীর্ঘোচ্চারিত এবং সপ্তম পংক্তিতে ‘চেয়ো না লাজে’ পদে ‘য়ো’ ও ‘না’ অক্ষর হ্রস্বোচ্চারিত। গানের সুরের বিস্তার ভাবানুযায়ী সুসঙ্গত করার প্রয়োজনেই ছন্দতালে এরূপ ব্যতিক্রমের অবকাশ দেওয়া হইয়াছে।
‘আত্মগত’ ১৩৪৮ সালের জৈষ্ঠ মাসে ১ম বর্ষের ৭ম সংখ্যক ‘রূপায়ন’ পত্রিকায় ‘আর জিজ্ঞাসা করিব না কোনো কথা’ শিরোনামে মুদ্রিত হইয়াছিল; কিন্তু সেই সংখ্যার ‘রূপায়ণ’ সম্পূর্ণ মুদ্রিত ও বাজারে বাহির হয় নাই। অতঃপর কবিতাটি ১৩৪৮ মাঘের ‘সওগাত’ পত্রিকায় ‘সাগরের ঢেউ’ শিরোনামে প্রকাশিত হইয়াছিল। ‘সওগাতে’ মুদ্রিত কবিতাটিতে ২৪ সংখ্যক পংক্তির পরে আছে এই শ্লোকটি—
মোর কবিতার কবুতরগুলি তোমার হৃদয়াকাশে
উড়িতে যখন চায়, কেন সেথা মেঘ ঘনাইয়া আসে?
এই শ্লোকটি ‘শেষ সওগাত’ কাব্যে নাই। সেখানে কবিতাটির শেষ ১০টি পংক্তির মুদ্রণেও বিপর্যয় ঘটিয়াছে,—শেষের ৪টি পংক্তি তাহার পূর্ববর্তী ৬টি পংক্তির উপরে সন্নিবেশিত হইয়াছে।
উক্ত ১০টি পংক্তি ‘সওগাত’-এ প্রকাশিত ‘সাগরের ঢেউ’ কবিতাটিতে নাই; সে স্থলে আছে নিম্নোদ্ধৃত ১০টি পংক্তি—
প্রেম দিয়ে এক পূর্ণ পরম প্রেমময়ে পাওা যায়;
মজনু পায় না লায়লীরে প্রেম দিয়ে হায় দুনিয়ায়!
প্রেম যে কি চায়, প্রেমিকও জানে না, বিশ্বে জানে না কেউ;
ঢেউয়ে মিশে ঢেউ শান্ত হয় না, কেন ওঠে আরও ঢেউ?
দেহ চায় দেই, মন চায় মন, আত্মা আত্মা চায়
প্রেম তবু বলে কাঁদিয়া নিত্য—কিছু পাইল না, হায়!
বিরহের মধুমঞ্জরী তুমি প্রিয়া, নহ মিলনের মধু-মালা;
কাবার তীর্থপথে কেন এত মরু-তৃষ্ণার জ্বালা?
কে বলিতে পারে কেন অনুরাগ—‘লোহিত সাগর’-তীরে
তৃষ্ণাকাতর গোবী সাহারার মরুভূমি আছে ঘিরে?
উপরন্তু ‘সাগরের ঢেউ’ কবিতাটিতে অনেক পংক্তির পদ পরিবর্তিত।
পু ন শ্চ
আবদুল কাদির-সম্পাদিত নজরুল-রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত শেষ সওগাত এবং প্রেমেন্দ্র মিত্রের ভূমিকা-সম্বলিত প্রথম সংস্করণ শেষ সওগাতের অনেক কবিতার মধ্যে স্তবক-বিন্যাস, ছন্দ-বিন্যাস এবং শব্দও বাক-বন্ধে পার্থক্য দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে অর্থগত, ভাবগত ও ছন্দোগত দিক বিবেচনা করে আবদুল কাদির এসব পরিবর্তন করেছিলেন বলে মনে হয়। আবার হয়তো তখনকার পরিবেশের বিবেচনায় হিন্দু ঐতিহ্যমূলক কিছু শব্দ ও চিত্রকল্পও পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন।
শেষ সওগাতের কবিতাবলী রচনাকালে নজরুল ইসলাম দৈনিক নবযুগের সম্পাদক ছিলেন এবং সে সময়েই তাঁর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। এই পরিপ্রেক্ষিতের কথা মনে রেখে নজরুল-রচনাবলীর নতুন সংস্করণে কবিতার ভাষা ও ভঙ্গির ক্ষেত্রে আমরা শেষ সওগাতের প্রথম সংস্করণ অনুসরণ করেছি এবং স্তবক ও ছন্দেবিন্যাসের ক্ষেত্রে আবদুল কাদির কৃত পরিবর্তন রক্ষা করেছি।
শেষ সওগাতে আবদুল কাদির-সংযোজিত ‘মহাত্মা মোহসিন’ কবিতাটি নতুন সংস্করণে শেষ সওগাতের অন্তর্ভুক্ত হয় নি। ওই কবিতাটি পাওয়া যাবে গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত কবিতা ও গান অংশে।
প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় প্রেমেন্দ্র মিত্র শেষ সওগাতে বহুসংখ্যক অপ্রকাশিত কবিতা সঙ্কলিত হওয়ার কথা বলেছেন, তবে কবিতাগুলি চিহ্নিত করেন নি। আবদুল কাদির এর অনেকগুলি কবিতার প্রথম প্রকাশের তথ্য উল্লেখ করেছেন। অপ্রকাশিত কবিতা বলতে প্রেমেন্দ্র মিত্র হয়তো গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত কবিতা বুঝিয়ে থাকতে পারেন।
প্রথম প্রকাশের পরে ডি, এম, লাইব্রেরি থেকে শেষ সওগাতের আরেকটি সংস্করণ প্রচারিত হয়। তাতে প্রেমেন্দ্র মিত্রের ভূমিকাটি থাকলেও তাঁর নাম মুদ্রিত হয় নি।
জন্মশতবর্ষ সংস্করণের সংযোজন
‘শেষ-সওগাত’ গ্রন্থে মোহসিন স্মরণে’ শীর্ষক গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, গ্রন্থ-পরিচয়ে বলা হয়েছে: ২৭-সংখ্যক কবিতা ‘মহাত্মা মোহসিন’ সংযোজিত হইয়াছে।‘ আসলে ২৭ সংখ্যক কবিতা ‘মহাত্মা মোহসিন’ নয়, বরং ‘মোহসিন স্মরণে’ শীর্ষক গান। [দ্রষ্টব্য: ‘নজরুল রচনাবলী’ নতুন সংস্করণ ৩য় খণ্ড, ১৯৯৩ পৃ: ৩৪০]
‘মহাত্মা মোহসিন’ শীর্ষক কবিতাটি নজরুল রচনাবলীর ৩য় খণ্ডে (১৯৯৩) ‘কবিতা ও গান’ পর্যায়ে ৪৩৭ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে। কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল তা সেখানে উল্লিখিত নেই। কবিতাটি ‘শেষ-সওগাত’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত না হলেও, ‘শেষ সওগাত’ এর গ্রন্থপরিচয়ে বলা হয়েছে, “২৭-সংখ্যক কবিতা: ‘মহাত্মা মোহসিন সংযোজিত হইয়াছে। ‘মহাত্মা হাজী মোহাম্মদ মোহসিন শিরোনামে ইহা দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকার মোহসিন সংখ্যায় ছাপা হইয়াছে।”
উপরোক্ত কারণে ‘মহাত্মা মোহসিন’ শীর্ষক কবিতাটি কবিতা ও গান [পৃ: ৪৩৭, নজরুল-রচনাবলী, নতুন সংস্করণ ১৯৯৩, ৩য় খণ্ড দ্রষ্টব্য] পর্যায়ে মুদ্রিত না হয়ে তা ‘শেষ সওগাত’ গ্রন্থে মুদ্রিত হলো।
নজরুলের ‘মহাত্মা মোহসিন’ শীর্ষক কবিতাটি দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকার ১৯৪১ সালের ৩০শে নভেম্বর (১৪ অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮) তারিখের সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, হাজী মোহাম্মদ মোহসিনের ১২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী সভা উদ্বোধন করে নজরুল ঐ অনুষ্ঠানে নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা দেন এবং কবিতাটি আবৃত্তি করেন। ১৯৪১ সালের ২৯শে নভেম্বর কলকাতায় নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের উদ্যোগে ৮৬নং কলেজ স্ট্রীটস্থ ওভারটুন হলি (ওয়াই এম. সি. এ) উক্ত মৃত্যুবার্ষিকী সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণ-সভায় নজরুল-রচিত গান ‘মোহসিন স্মরণে’ পরিবেশন করেন শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ। গানটি ‘মহাত্মা মোহসিন’ শিরোনামে দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকার ১৯৪১ সালের ২৯শে নভেম্বর (১৩ অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮) তারিখের সংখ্যায় সম্পাদকীয় পৃষ্ঠার তৃতীয় ও চতুর্থ কলামের মাঝখানে বক্স করে ছাপা হয়।
মোহসিন-স্মরণ সভার উদ্বোধনী ভাষণে নজরুল বলেছেন:
‘আজ মহাত্ম মোহসিনের স্মৃতি-দিবসের সভায় উপস্থিত হয়ে আমি নিজেকে খুব গৌরবান্বিত মনে করছি। এই মহাত্মার দানের প্রতিদান দিতে পারে, এমন লোক আজও পয়দা হয় নাই। আমি আজ এই মহাপুরুষের স্মৃতির প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। [দ্রষ্টব্য : দানবীর হাজী মোহাম্মদ মোহসিনের পুণ্য-স্মৃতিবার্ষিকী সভার বিবরণী। দৈনিক ‘নবযুগ’ ৩০শে নভেম্বর, ১৯৪১, ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮ ]।
‘শেষ-সওগাত’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘মোহসিন স্মরণে’ [গান] এবং ‘নজরুল রচনাবলী’র ৩য় খণ্ডের নতুন সংস্করণ (মে, ১৯৯৩) অন্তর্গত ‘কবিতা ও গান’ পর্যায়ে মুদ্রিত (পৃ: ৪৩৭) ‘মহাত্মা মোহসিন’ শীর্ষক কবিতা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র রচনা। ‘কেন আপনারে হানি হেলা’ শীর্ষক কবিতাটি দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২২শে নভেম্বর, ১৯৪১, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৩৪৮ সংখ্যায়। ‘নবযুগ’ এ প্রকাশিত কবিতাটির সঙ্গে ‘নজরুল-রচনাবলী’র নতুন সংস্করণের (মে, ১৯৯৩) ৩য় খণ্ডের অন্তর্গত ‘শেষ সওগাত’ গ্রন্থে সঙ্কলিত কবিতার পার্থক্য রয়েছে। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো। দৈনিক, ‘নবযুগ’-এ প্রকাশিত কবিতাটির প্রথমাংশ নিম্নরূপ:
বন্ধুরা কহে, ‘হায় কবি,
কেন এ নিঠুর খেলা,
কোন অকারণ অভিমানে
আপনারে হানো হেলা?’
কহিলাম ‘মা গো আমি কবি
দেশে ফিরি নাকি রস ঢেলে,
সে রসের কিছু পাওনি কি
তুমি আর তব মৃত ছেলে?’
কহে সে ভিখরিণী আঁখি-জলে,
‘রস পান? সে তো বিলাসীদের!
তেল মাখ তুমি তেলা মাথায়,
হায়, কেহ নাই ভিক্ষুকের।‘
মরা খোকা লয়ে ভিখারিণী
চলে গেল কোন পথে সুদূর,
জ্ঞান হলে আমি আসি চেয়ে দেখি,
বুকে জাগে মোর মরা শিশুর।‘
‘শেষ সওগাত’ গ্রন্থের অন্তর্গত কবিতাটির প্রথমাংশ নিম্নরূপ:
‘বন্ধুরা কহে, ‘হায় কবি,
খেল একি নিঠুর খেলা,
কোন অকারণ অভিমানে
আপনারে হানো অবহেলা?’
হাসিয়া কহিনু— ‘হয়েছে কি?
বন্ধুরা কহে—‘চুলোর ছাই।
আপন সৃষ্টি করিছ যে নাশ,
সেদিকে তোমার দৃষ্টি নাই?’
আমি কহিলাম—’জানি না ত
সৃষ্টি করেছি কিছু আমি,
সাগরের তৃষা লয়ে নদী
শুধু সম্মখে ছুটিয়া যায়,
পথে পথে যেতে ঢেউ যে তাহার
কত কথা বলে, কত কি গায়।
‘ভয় করিও না, হে মানবাত্মা’ শীর্ষক কবিতাটি দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকার ১৯৪১ সালের ৭ই ডিসেম্বর (২১শে অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮) সংখ্যায় ৪র্থ পৃষ্ঠায় অর্থাৎ সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হয়।
‘সুখ বিলাসিনী পারাবত তুমি’ শীর্ষক কবিতাটি নজরুল দার্জিলিং-এ অবস্থানকালে ১৪-৬-৩১ তারিখে অর্থাৎ ১৯৩১ সালের জুন মাসের ১৪ তারিখে স্বহস্তে কবির সফরসঙ্গী জাহানারা চৌধুরীর খাতায় লিখে দেন [১৯৯৮ সালের ১২ই জুন ‘দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সাময়িকীতে প্রকাশিত আবদুল মান্নান সৈয়দের অপ্রকাশিত নজরুল শীর্ষক নিবন্ধে মুদ্রিত নজরুলের হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির ফটোকপি দ্রষ্টব্য] জাহানারা চৌধুরী সম্পাদিত বার্ষিক ‘রূপরেখা’ থেকে কবিতাটি ১৩৪৩ সালের বৈশাখের ‘বুলবুল’ পত্রিকায় পুনর্মুদ্রিত হলেও রচনাটির নীচে পুনর্মুদ্রণের কোন উল্লেখ নেই। [ দ্রষ্টব্য: নির্বাচিত ‘বুলবুল’ সঙ্কলন, পৃ. ২২৩]
‘হুল ও ফুল’ শীর্ষক কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকায় ১৯৪১ সালের ২৪শে নভেম্বর (৮ অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮) তারিখের সংখ্যায়। ‘নবযুগ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘হুল ও ফুল’ কবিতায় নিম্নোক্ত পংক্তি কয়টি ‘শেষ সওগাত’ গ্রন্থে মুদ্রিত ‘হুল ও ফুল’ কবিতায় নেই। পংক্তি কয়টি হলো:
চৌদ্দ পুরুষ কাঙাল তার, যে
কাঙালের কথা কহে
ওরা! বলে! আমি বলি, ‘এ আখ্যা
যেন চিরদিন রহে।‘
উপরোক্ত পংক্তি দুটি ‘নজরুল-রচনাবলী’র নতুন সংস্করণের (মে, ১৯৯৩) অন্তর্গত ‘হুল ও ফুল’ কবিতায়: ‘ওরা কয়। আমি বলি, ‘বেশ করে সে তালায় তালা দিও।‘
‘নারী’ শীর্ষক কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকার ১৯৪১ সালের ২৭শে নভেম্বর (১১ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮) তারিখের সংখ্যায়। উল্লেখযোগ্য যে, নজরুলের এই কবিতাটি তাঁর ‘নারী’ শীর্ষক দ্বিতীয় কবিতা। কবির ‘সাম্যবাদী’-গ্রন্থের অন্তর্গত সাম্যবাদী সিরিজের কবিতা ‘নারী’ তাঁর ‘নারী’ শীর্ষক প্রথম কবিতা।
‘একি আল্লার কৃপা নয়?’ শীর্ষক কবিতাটি দৈনিক ‘নবযুগ’ এর ১৯৪১ সালের ৫ই ডিসেম্বর (১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮) তারিখের সংখ্যায় ৪র্থ পৃষ্ঠায় সম্পাদকীয় হিসাবে প্রথম প্রকাশিত হয়।
‘তোমারে ভিক্ষা দাও’ শীর্ষক কবিতাটি দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকার ১৯৪১ সালের ৯ই ডিসেম্বর (২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮) তারিখের সংখ্যায় চতুর্থ পৃষ্ঠায় (সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায়) প্রথম প্রকাশিত হয়।
‘শোধ কর ঋণ’ শীর্ষক কবিতাটি দৈনিক ‘নবযুগ’ এর ১৯৪১ সালের ১০ই ডিসেম্বর (২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৩৪৮) তারিখের সংখ্যায় চতুর্থ পৃষ্ঠায় (সম্পাদকীয় পৃষ্ঠা) প্রথম প্রকাশিত হয়।
‘কচুরীপানা’ শীর্ষক গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকায় ১৯৪১ সালের ২৪শে ডিসেম্বর, (১ই পৌষ, ১৩৪৮) তারিখের সংখ্যায় চতুর্থ পৃষ্ঠায় (সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায়)।
‘বড়দিন’ শীর্ষক কবিতাটি দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকায় ১৯৪১ সালের ২৭শে ডিসেম্বর (১২ই পৌষ, ১৩৪৮) তারিখের সংখ্যায় চতুর্থ পৃষ্ঠায়, সম্পাদকীয় রচনারূপে প্রথম প্রকাশিত হয়।
‘বকরীদ’ শীর্ষক কবিতাটি দৈনিক ‘নবযুগ’-এর ১৯৪১ সালের ২৮শে ডিসেম্বর (১৩ই পৌষ, ১৩৪৮) তারিখের সংখ্যায় চতুর্থ পৃষ্ঠায় (সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায়) প্রথম প্রকাশিত হয়।
‘গোড়ামী ধর্ম নয়’ শীর্ষক কবিতাটি দৈনিক ‘নবযুগ’-এর ১৯৪২ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারী (২০শে মাঘ, ১৩৪৮) তারিখের সংখ্যায় চতুর্থ পৃষ্ঠায় (সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায়) প্রথম প্রকাশিত হয়।
তথ্যসূত্র:
‘নবযুগ ও নজরুল-জীবনের শেষ পর্যায়’ শেখ দরবার আলম প্রণীত, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত, জুলাই ১৯৮৯ দ্রষ্টব্য।‘
বি. দ্র.:
নজরুল রচনাবলী ৩য় খণ্ড (নতুন সংস্করণ, মে ১৯৯৩) এর অন্তর্গত ‘শেষ সওগাত’ এর গ্রন্থ-পরিচয়-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই এখানে প্রদত্ত তথ্যাদির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব উপলব্ধ হবে।
শেষ সওগাত সূচী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
ভালো লাগা জানান
Scroll Up