এযাবৎ 50 টি গ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে।
মেঘলোক
[মৃদঙ্গ বাজাইতে বাজাইতে ‘মেঘ’-এর প্রবেশ। ‘মেঘ’-এর নীলাঞ্জন অনুলিপ্ত অঙ্গ, উচ্ছৃঙ্খল ঝামর চুল স্কন্ধদেশ ছাইয়া ফেলিয়াছে। চূড়ায় বঙ্কিম শিখীপাখা ফিকে-নীল ফিতা দিয়া বাঁধা। ললাটে বহ্নিশিখা-রঙের প্রদীপ-রক্তচন্দন যেন বজ্রাগ্নি। স্নিগ্ধ নয়নে ঘন কাজল ঝলমল করিতেছে, – যেন এখনই জল ঝরিয়া পড়িবে। গলায় হলুদ-রাঙা রাখি দিয়ে বাঁধা গম্ভীর নিনাদী মৃদঙ্গ। পরনে পেনসিল দিয়া ঘষা শ্লেট রঙের ধড়াধড়া — কটিবসন। ও ঢিলা নিমাস্তিননিমাস্তিন — আস্তিন (ফুলহাতা) যুক্ত ফতুয়া।। দুই হাতের মণি-বন্ধে কাঁচা সোনার বলয়-কঙ্কণ। মৃদঙ্গে আঘাত হানার বিরতিতে দুই বাহু ঊর্ধ্বে উৎক্ষিপ্ত হইতেছে, সুবর্ণ-কঙ্কণ-বলয় বিজুরির ঝিলিক হানিতেছে। পৃষ্ঠদেশ ব্যাপিয়া সাতরঙা বিরাট জলধনু।
অন্তরীক্ষ হইতে স্নিগ্ধ-গম্ভীর কন্ঠের একতান-সংগীত ভাসিয়া আসিতেছে – সেই গানের তালে তালে ‘মেঘ’-এর মৃদঙ্গ বাদন ও নৃত্য]
গরজে গম্ভীর গগনে কম্বু
নাচিছে সুন্দর নাচে স্বয়ম্ভু।।
সে নাচ-হিল্লোলে জটা-আবর্তনে
সাগর ছুটে আসে গগন-প্রাঙ্গনে।
আকাশে শূল হানি
শোনাও নব-বাণী
তরাসে কাঁপে প্রাণী
প্রসীদ শম্ভু।।
ললাট-শশী টলি জটায় পড়ে ঢলি,
সে শশী-চমকে গো বিজলী ওঠে ঝলি
ঝাঁপে নীলাঞ্চলে মুখ দিগঙ্গনা,
মুরছে ভয়-ভীতা নিশি নিরঞ্জনা।
আঁধারে পথ-হারা
চাতকী কেঁদে সারা,
যাচিছে বারিধারা,
ধরা নিরম্বু।।
[গান করিতে করিতে একদল নৃত্যপরা কিশোরীর বেশে ‘বৃষ্টিধারা’র প্রবেশ। তাদের পরনে মেঘ-রং কাঁচুলি, ধানী-রং ঘাঘরা – পাড় জরির। নীল জমিনে সাদা ডোরা-কাটা কাপড়ের হালকা উত্তরীয়। পায়ে ছড়া নুপূর, কারুর পায়ে পাঁইজোর গুজ্‌রি। সবুজ আলতা-ছোপানো পদতল। হাতভরা সোনালি-রং রেশমি চুড়ি, কঙ্কণ, কেয়ূর। শ্রোণিতে ফোটা-কদমের ঢিলে চন্দ্রহার। বুকে জুঁই-চামেলির গোড়ে মালা। আঁখি-পাতার কূলে কূলে চিকন কাজললেখা। কপোল কেতকিপরাগ-পাণ্ডুর। জোড়া ভুরু লুলিতে অলকে হারাইয়া গিয়াছে। ভুরু-সন্ধিতে কাঁচপোকার টিপ। কর্ণমূলে শিরীষ-কুসুম। কারুর কটিতে ছোট্ট গাগরি, কারুর হাতে ফুল-ঝারি। কেহ বিলম্বিতবেণি, কেহ আলুলায়িত কুন্তলা। বিলম্বিত-বেণি কিশোরীরা আনমনে স্খলিত মন্থরগতিতে পদচারণা করিয়া ফিরিতেছে, মুক্ত-কুন্তলা বালিকারা নাচিয়া নাচিয়া ফিরিতেছে, জড়াজড়ি করিয়া – ঘুরিয়া ফিরিয়া। এক কোণে একটি বালিকা একরাশ কেয়াফুল বুকে জড়াইয়া পা ছড়াইয়া উদাস চোখে চাহিয়া আছে। ‘বৃষ্টিধারা’র নৃত্য-গানের ছন্দে ছন্দে অন্তরীক্ষ হইতে রাশি রাশি জুঁই, চামেলি, বেলি, বকুল, দোপাটি, টগর ঝরিয়া ঝরিয়া পড়িতেছে। ওই গানের তালে তালে ‘মেঘ’-এর মৃদঙ্গ বাদন ও নৃত্য।]
বৃষ্টিধারার গান
অধীর অম্বরে গুরু গরজন মৃদঙ বাজে।
রুমু রুমু ঝুম মঞ্জরির-মালা চরণে আজ উতলা যে।
এলোচুলে দুলে দুলে বন-পথে চল আলি,
মরা গাঙে বালুচরে কাঁদে যথা বন-মরালী।
উগারি গাগরি-ঝারি
দে লো দে করুণা ডারি,
ঘুঙট উতারি বারি
ছিটা লো গুমোট সাঁঝে।।
তালিবন হানে তালি, ময়ূরী ইশারা হানে;
আসন পেতেছে ধরা মাঠে মাঠে চারা-ধানে।
মুকুলে ঝরিয়া পড়ি আকুতি জানায় যূথি,
ডাকিছে বিরস শাখে তাপিতা চন্দনা তূতী।
কাজল-আঁখি রসিলি
চাহে খুলি ঝিলিমিলি,
চল লো চল সেহেলী
নিয়ে মেঘ-নটরাজে।।
[বৃষ্টিধারার বালিকাদের নাম – রেবা, চিত্রা, কঙ্কা, চূর্নী, মঞ্জু, নীরা, বিন্দু, নীপা, কৃষ্ণ, চম্পা, অশ্রু, মন্দা।]
মেঘ
:
ওগো নৃত্যপরা নূপুরিকার দল! তৃষ্ণাতুরা ধরার আবেদন কি এতদিনে পৌঁছোল তোমাদের দরবারে? চাতকীর চক্ষু যে বিশুষ্ক হয়ে উঠল তোমাদের করুণা যেচে যেচে!
মন্দা
:
(সেই আনমনা বালিকাটি, যে একরাশ কেয়া বুকে করে বসে ছিল) সত্যি বলেছ রাজা, দিদিদের আর নূপুর পরাই হয় না। কাজল ঘষে ঘষে চোখে জল ভরে এল, তবু কাজল পরাই আর শেষ হয় না! আমি তো কোন সকালে উঠে কেতকী-বিতানে এসে পথ চেয়ে বসে আছি। (বেণি জড়াইতে জড়াইতে) বেণিটাও জড়াবার ফুরসৎ পাইনি!
রেবা
:
তোর বাপু সব-তাতেই অতিরিক্ত তাড়া-হুড়ো। আমরা বলি, নটরাজের মাদলই আগে বেজে উঠুক, ঝলুকই আগে বিজলির ইঙ্গিত – তা না – মেঘ না চাইতেই জল! ভোর না হতেই বেরিয়েছেন পাড়া বেড়াতে! একবার তমালতলায়, একবার কদম-শাখায়, একবার পাহাড়তলির শাল-বীথিকায়, একবার কেয়াবনের নাগ-পল্লিতে –
মন্দা
:
আর তোমরাই বা কীসে কম রেবাদি? ঘুমুর বাঁধছ তো বাঁধছই! ঝিল্লি বেচারি সন্ধে থেকে সুর দিয়ে হয়রান! কেশ এলো করছ তো করছই! কত যে বিজুলি-ফিতে ছিঁড়ল – কত যে লোধ ফুলের প্রাণ গেল গাল রাঙাবার রেণু জোগাতে!
বিন্দু
:
তুই থাম মন্দা! আচ্ছা রাজা, আজ যে অসময়ে তোমার মৃদঙ্গে তালি পড়ল! আমরা সব কেউ সাগর-দোলায় কেউ শৈল-শিরে ঘুমুচ্ছি হঠাৎ জেগে দেখি কিরণমালা পূর্বে-হাওয়ায় পালকি নিয়ে হাজির, হাতে তার নীপের শাখা।
মেঘ
:
তোমাদের অভিযানে বেরুতে হবে, বিন্দু!
বৃষ্টিধারার সকলে
:
অভিযানে বেরুতে হবে? আবার কার বিরুদ্ধে অভিযান, রাজা? এবার কোন্ দৈত্যপুরী ভাঙবে?
মেঘ
:
গন্ধর্ব-লোকের পদ্মাদেবী আমাদের স্মরণ করেছেন। তাঁর বুকের উপরে বাঁধ বাঁধবার জন্যে নাকি দুর্দান্ত যন্ত্রপতির ষড়যন্ত্র চলেছে। পদ্মা এ অপমান সইবেন না। তিনি আমাদের সাহায্য চান।
চিত্রা
:
ওমা, কী হবে? যন্ত্রপতির স্পর্ধা তো কম নয়! তার রাজ্য পশ্চিম হতে ক্রমেই পূর্বে প্রসারিত হয়ে চলেছে উন্মত্ত বুভুক্ষায় – তা দেখছি, তাই বলে সে-ঔদ্ধত্য যে পদ্মাকেই লাঞ্ছনা হানতে এগুবে – এ বার্তা শুধু নতুন নয় রাজা – অদ্ভুত!
কঙ্কা
:
এই অতিদর্পীকে একটা অতি বড়ো শাস্তি না দিলে আর চলে না, রাজা!
চূর্ণী
:
তোমার ব্রহ্মাস্ত্র নিশিত বজ্র, তোমার সেনাপতি পবন, তার মারণসেনা বন্যা তুফান ঝঞ্ঝা – সব প্রস্তুত তো রাজা?
মঞ্জু
:
হাঁ, সব প্রস্তুত বইকী! ওলো চূর্নী, রাজার কঠিন বজ্র যে এখন শ্রীমতী বিদ্যুল্লতার গলায় কোমল হার হয়ে ঝলমল করছে। বলি রাজা, তোমার হাতের বজ্র ভেঙে কি শেষে প্রিয়ার গলার হার গড়ালে? হা কপাল! যেমন রাজা, তেমনই সেনাপতি! সেনাপতি পবনদেব ওদিকে ফুল-কুমারীর মহলে মহলে ঘুরঘুর করে বেড়াচ্ছেন! মালতীর কানে ফুঁ, মল্লিকার গালে সুড়সুড়ি, কামিনীর চোখের পাতায় চুমকুড়ি, কমলের খোঁপা ধরে টান – এই তো বীরবরের কীর্তি! উপযুক্ত রাজার উপযুক্ত সেনাপতি!
মেঘ
:
(হাসিয়া) সত্যিই আমার সেনাপতির ধনুর্বাণ কামদেব চুরি করেছেন, মঞ্জু! আর আমার বজ্রাগ্নি লুকিয়েছে (মঞ্জুর কপোলে মৃদু অঙ্গুলি আঘাত হানিয়া) তোমাদের ওই কালো আঁখি-কোণে!
নীরা
:
বেশ তো রাজা, তালে এ অভিযানে আর তোমার হিমালয় ছেড়ে যাবার দরকার কি? শুধু আমরাই যাই না কেন, দেখি এ আঁখির আগুনে যন্ত্ররাজ দগ্ধ হয় কি-না!
মেঘ
:
অমন কাজ কোরো না নীরা, কোরো না! ও হতভাগ্য, যত পুড়বে তত খাঁটি হবে, তত ওর শান্তি বাড়বে। তোমাদের আঁখির আগুনে – ওর কঠিন হিয়া গলবে না, নীরা! কত অশ্রুই না ঝরছে নিরন্তর অনন্ত আকাশ গলে ওর প্রতপ্ত ললাটে, তবু ওই অশান্ত দৈত্য-শিশু শান্ত হল না। পুড়িয়ে ওর কিছু করতে পারবে না, আগুনই ওর প্রাণ। ওকে ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
নীপা
:
তোমায় যদি পথে পথে ভাসিয়ে নিয়ে বেড়াতে পারি রাজা, ওই দৈত্যটাকে আর পারব না?
কৃষ্ণা
:
ওরে নীপা, আমাদের রাজা হল দেবতা – উপরের মানুষ, তাই ওকে পলকা হাওয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে বেড়ানো দুরূহ নয়, কিন্তু ওটা যে হল দৈত্য, তাইতো ও এত ভার! ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভয়েই তো ও এমন করে চোখ-কান বুঁজে মাটি কামড়ে পড়ে আছে! তাই তো ও স্থানু। ওকে ভাসানো অত সহজ হবে না!
অশ্রু
:
ঠিক বলেছিস কৃষ্ণা! ফুল সুন্দর বলেই একটু ছোঁয়ায় ঝরে যায়, একটু ফুঁয়ে উড়ে যায়! আর ওই দৈত্যটা কুৎসিত, তাইতো ও হয়ে উঠল বোঝা, ওর আসন হল অটল। ওর পায়ে মাথা খুঁড়লে শুধু ললাটই হবে ক্ষত, আসন এক বিন্দু টলবে না!
মেঘ
:
দেব-দানবের এ-যুদ্ধ চিরন্তন, অশ্রু! ওই মায়াবী দৈত্যটা হাজার রূপ ধরে হাজার বার আমাদের স্বর্গ আক্রমণ করেছে, প্রতিবারেই ওদের আক্রমণ আমরা প্রতিহত করেছি। আমাদের একমাত্র ভয়, ওরা ঘোর মায়াবী! কোন্ ছিদ্র দিয়ে যে স্বর্গপুরী প্রবেশ করবে – তার ঠিক-ঠিকানা নেই। ওদের রূপার কাঠির ছোঁয়ায় কত রূপের পুরী পাষাণ-পুরী হয়ে উঠল। ও কাঠি যাকে ছোঁবে, সেই হয়ে যাবে জড়। ও-রূপার কাঠি জাদু জানে! ওরা যদি তাই দিয়ে একবার এ-স্বর্গকে ছুঁতে পারে, তাহলে এর সমস্ত আনন্দ এক মুহূর্তে পাষাণ হয়ে যাবে, এর পারিজাতমালা শুকিয়ে উঠবে!
অশ্রু
:
তাহলে কী উপায় হবে রাজা! ও যদি আমাদের আনন্দপুরী ছুঁয়ে দেয়? তুমি খুব বিপুল করে প্রাচীর গাঁথ না কেন আমাদের স্বর্গ ঘিরে!
মেঘ
:
ওরে বাস্ রে! তাহলে কি আর রক্ষা আছে! ওরা তো তাই চায়। তারই জন্যে তো ওরা আমাদের নিরন্তর রাগিয়ে তুলছে। প্রাচীর তুললেই তো ওদের ভাঙবার পশুত্বটাকে প্রচণ্ড করে তোলা হবে। আমরা একটা কিছু আড়াল তুললেই ওরা সেইটে অবলম্বন করে উঠে আসবে স্বর্গে। অবলম্বন পাচ্ছে না বলেই তো ওরা মাঝপথ থেকে হতাশ হয়ে ফিরে ফিরে যাচ্ছে, এ স্বর্গলোকের সীমা খুঁজে পাচ্ছে না।
চম্পা
:
কিন্তু রাজা গন্ধর্বলোক তো প্রাচীর তুলেই ওদের আক্রমণ প্রতিহত করতে চাচ্ছে।
মেঘ
:
মূর্খ ওরা, তাই ওদের আজ কী দুর্দশা হয়েছে দেখ। যন্ত্ররাজের যে পথ কিছুতেই মাটি ছাড়িয়ে উঠতে পারছিল না, দেয়াল তুলে গন্ধর্বলোক সেই পথকে স্বর্গের দুয়ার পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে! ওই দেয়াল ধরেই ওরা ওদের উপর এসে পড়েছে দলে দলে।
চম্পা
:
রাজা, এইবার যদি ওরা স্বর্গে এসে পড়ে?
মেঘ
:
ভয় নেই চম্পা। আমাদের এ অলখপুরীর দশ দিক মুক্ত। তাই তো ওরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে, পথ খুঁজে পাচ্ছে না। বন্ধদ্বার দুর্গেই পড়ে শত্রুর পরিপূর্ণ আক্রোশ। আড়ালের ইঙ্গিতে শত্রুকে আহ্বান করার মতো দুর্বুদ্ধি আর নেই। নিম্নে দৃষ্টিপাত করে দেখ, কী বীভৎস ওই যন্ত্রী-সেনা – ইঁট, কাঠ, পাথর, লোহা, চুন, সুরকি, ধুলো-বালি! – ওদের সংখ্যা করা যায় না – কেবল স্তূপ আর স্তূপ! প্রাণ যেন হাঁপিয়ে ওঠে! সব প্রাণহীন! আর প্রাণহীন বলেই অন্যেরে প্রাণে মারতে ওদের বাজে না! ওই দেখো, গন্ধর্বলোকের প্রাচীর ধরে ওরা কীরকম ছেয়ে ফেলছে ওদের দেশ – মারীভয়ের মতো! এ সুবিধা যদি না করে দিত গন্ধর্বলোক, তাহলে ও পাপ অন্ধকারের নীচেই পড়ে থাকত মুখ থুবড়ে।
চিত্রা
:
কিন্তু রাজা, যন্ত্ররাজের ওই সেতু-বন্ধকে এত ভয়েরই বা হেতু কী? অমনি সেতুবন্ধ দিয়েই তো সীতার উদ্ধার হয়েছিল!
মেঘ
:
উদ্ধারই বটে, চিত্রা! ওই সেতুবন্ধে পদার্পণে পাপে আগুনে পুড়েও সীতার কলঙ্ক পুড়ল না – শেষে পাতাল প্রবেশ করে উদ্ধার খুঁজতে হল।
রেবা
:
বুঝেছি রাজ, সকল বন্ধন ও বন্ধনী হতে মুক্ত রাখাই হয়তো আমাদের স্বর্গপুরীর শ্রেষ্ঠ আত্মরক্ষা!
মন্দা
:
আচ্ছা রাজা, যন্ত্ররাজের এই সেতুবন্ধের উদ্দেশ্য কী?
মেঘ
:
এই সেতুবন্ধ যে পাতালপুরীর সীতার উদ্ধার করবে না মন্দা, ও করতে চায় স্বর্গলক্ষ্মীকে বন্দিনী। ওই সেতুবন্ধ স্বর্গ-প্রবেশের লঙ্ঘন-সোপান। ওই সেতুবন্ধের লৌহ-বর্ম দিয়ে সে স্বর্গলক্ষ্মীর কেশাকর্ষণ করে টেনে নিয়ে যাবে – তাই বলে তার সমুদ্ধত কৃষ্ণ-পতাকা!
কৃষ্ণা
:
তাহলে ওকে দুঃশাসনের মতো মারও খেতে হবে, রাজা!
মেঘ
:
ঠিক বলেছ কৃষ্ণা, অনাগত সে দিন এল বলে। এখন চলো, পদ্মা দেবীর নিরাশা-শুষ্ক কূল পানে। যন্ত্রপতির আয়োজন দেখে তার পর সেনাপতি পবন-দেবকে খবর দেওয়া যাবে। সে ততক্ষণ ফুলমহলায় বিশ্রাম করে নিক।
[নৃত্য-গান করিতে করিতে মেঘ ও বৃষ্টিধারার প্রস্থান।]
হাজার তারার হার হয়ে গো
দুলি আকাশ-বীণার গলে।
তমাল-ডালে ঝুলন ঝুলাই
নাচাই শিখী কদম-তলে।।
‘বউ কথা কও’ বলে পাখি
করে যখন ডাকাডাকি,
ব্যথার বুকে চরণ রাখি
নামি বধূর নয়ন-জলে।।
ভয়ংকরের কঠিন আঁখি
আঁখির জলে করুণ করি,
নিঙাড়ি নিঙাড়ি চলি
আকাশ-বধূর নীলাম্বরী।
লুটাই নদীর বালুতটে,
সাধ করে যাই বধূর ঘটে,
সিনান-ঘাটের শিলা-পটে
ঝরি চরণ-ছোঁয়ার ছলে।।
আপনার জন্য প্রস্তাবিত
Scroll Up