এই ডিজিটাল সংস্করণটি বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'নজরুল রচনাবলী (জন্মশতবর্ষ সংস্করণ)' অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে।
কুহেলিকা কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক-দর্শনভিত্তিক উপন্যাস। এতে ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশী আন্দোলন, হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক, জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় পরিচয় এবং ব্যক্তিগত প্রেম-সংঘাত একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে নজরুল তাঁর রাজনৈতিক চেতনা ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। সাহিত্যসমালোচকদের মতে, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক উপন্যাস নয়; বরং সমকালীন সমাজ-বাস্তবতা ও আদর্শিক দ্বন্দ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় ‘কুহেলিকা’র প্রথম কিস্তি প্রকাশিত হয়। নওরোজ পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে উপন্যাসটি মাসিক সওগাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ অব্যাহত থাকে। প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশ: ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ)।
উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর একজন বিপ্লবী তরুণ। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, প্রেম, ধর্মীয় পরিচয় এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সংঘাতকে কেন্দ্র করে কাহিনি গড়ে উঠেছে। উল্লেখযোগ্য নারী চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন তাহমিনা (ভূণী), চম্পা এবং ফিরদৌস বেগম। উপন্যাসে নজরুল সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরোধিতা করে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তরুণ কবি হারুনের মেসে তার রচিত ‘নারী কুহেলিকা’ কবিতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। জাহাঙ্গীর একজন বিপ্লবী স্বদেশী দলের কর্মী। নারী সম্পর্কে তার ধারণা নেতিবাচক। সে মনে করে ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহণ পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।
‘কুহেলিকা’র প্রধান চরিত্র জাহাঙ্গীর, বিপ্লবী স্বদেশী দলের কর্মী; হারুন, তরুণ কবি; প্রমথ, হিন্দু বিপ্লবী; নারী চরিত্রের মধ্যে রয়েছে— চম্পা, তাহমিনা (ভুণী), ফিরদৌস বেগম।